মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার :
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২২ নং ওয়ার্ডকে একটি ‘মডেল ওয়ার্ড’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সরব রয়েছেন তরুণ ও জনপ্রিয় সমাজকর্মী রনি সরকার। সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদ—এই পরিচিতির বাইরে তিনি এখন ২২ নং ওয়ার্ডের প্রতিটি গ্রাম ও মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। 'সুষম উন্নয়ন ও জবাবদিহিতা'—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে তিনি তুলে ধরেছেন তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা।
উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা: গ্রামভিত্তিক সুষম অগ্রগতি
রনি সরকার মনে করেন, ২২ নং ওয়ার্ডের পাঁচটি গ্রামই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি গ্রাম যেন উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত না থাকে, সেই লক্ষ্যে তিনি প্রণয়ন করেছেন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা:
আধুনিক অবকাঠামো: রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা থেকে বাংলাবাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণ এবং প্রতিটি গ্রামের অভ্যন্তরীণ রাস্তার মানোন্নয়ন। জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনাই তার মূল লক্ষ্য।
নিরাপদ ও স্মার্ট ওয়ার্ড: রাতের অন্ধকার দূর করতে প্রতিটি প্রধান ও সংযোগ সড়কে শক্তিশালী স্ট্রিট লাইট স্থাপন এবং এলাকাকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় এনে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা: প্রতিটি গ্রামে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র রোগীদের জন্য 'হেলথ কার্ড' প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
কৃষক ও শ্রমিক কল্যাণ: সরকারি ভাতার ক্ষেত্রে দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য বাজারজাতকরণে বিশেষ সহায়তা প্রদান।
তারুণ্যনির্ভর ও ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ
তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়নে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ এবং খেলার মাঠ সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে তার। এছাড়া রাজেন্দ্রপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন রনি সরকার।
জবাবদিহিতা ও জনঅংশগ্রহণ
জনপ্রতিনিধি হওয়ার চেয়ে 'জনসেবক' হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় রনি সরকার প্রতিটি গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে 'ওয়ার্ড উন্নয়ন কমিটি' গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। নিয়মিত 'জনশুনানি'র মাধ্যমে ওয়ার্ডের সমস্যাগুলো সরাসরি নাগরিকদের মুখ থেকে শোনার অঙ্গীকার করেছেন এই তরুণ প্রার্থী।
সাধারণ মানুষের ভাবনা
রনি সরকারের এই ইশতেহার নিয়ে এলাকায় বেশ ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, "রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় রনি সরকারের পরিকল্পনা আমাদের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করবে। তিনি শুধু একজন প্রার্থী নন, তিনি আমাদের সমস্যাগুলো বোঝেন এবং তার সমাধানও তার জানা আছে।"
বয়স্ক ভাতার ভোগান্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আসমা নামের এক বৃদ্ধা বলেন, "আগে বয়স্ক ভাতার কার্ড করতে অনেক হয়রানি হতে হতো, দালালের হাতে টাকা দিতে হতো। রনি আমাদের কথা দিয়েছে যে, এই দালালের দৌরাত্ম্য সে বন্ধ করবে এবং আমরা সরাসরি সেবা পাবো। তার মতো একজন সৎ ও তরুণ মানুষই আমাদের প্রয়োজন।"
শ্রমিকদের প্রত্যাশা সম্পর্কে রিকশা শ্রমিক সোহাগ বলেন, "রনি ভাই আমাদেরই একজন। শ্রমিক অধিকার নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি যখন ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট আর জলাবদ্ধতা নিরসনের কথা বলেন, তখন আমরা আশার আলো দেখি। তিনি নির্বাচিত হলে আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য বদলাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।"
রনি সরকারের অঙ্গীকার:
"আমি বিশ্বাস করি, পাঁচটি গ্রাম মিলেই আমাদের ২২ নং ওয়ার্ড। একটি গ্রামের উন্নয়নে যেন অন্য গ্রাম পিছিয়ে না থাকে, সেই ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে আমার প্রথম কাজ। আমি শুধু নির্বাচিত প্রতিনিধি হতে আসিনি, এলাকার প্রতিটি মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকার সেবক হতে এসেছি।"
এমন একজন প্রতিশ্রুতিশীল প্রার্থীর হাতেই ২২ নং ওয়ার্ডের আগামীর সমৃদ্ধি দেখছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। স্বচ্ছতা এবং কাজের সুষম বণ্টনের এই আধুনিক ইশতেহার বর্তমান ওয়ার্ডের ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo