৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল সমগ্র জাতির সম্মিলিত আত্মত্যাগের ফসল;
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বেলজিয়াম বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান লিটল বলেছেন, “ইতিহাসের মালিকানা কারও একার নয়। যে ইতিহাসে লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও ত্যাগের পদচিহ্ন রয়েছে, সেই ইতিহাসকে কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক কৃতিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা ন্যায়সংগত নয়।”
৫ আগস্ট উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন ছিল বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। এই আন্দোলনের সফলতা কোনো একক নেতৃত্ব, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন কিংবা পেশাজীবী গোষ্ঠীর অর্জন নয়; বরং এটি ছিল দেশের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সাহস, আত্মত্যাগ, অশ্রু, রক্ত এবং অদম্য প্রত্যয়ের ফল।
সাইদুর রহমান লিটল বলেন, রাজপথে বুক পেতে দাঁড়ানো শিক্ষার্থী, সন্তানের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনায় থাকা মা, আহতদের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, আদালতে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করা আইনজীবী, সত্য প্রকাশে ঝুঁকি নেওয়া সাংবাদিক, নির্যাতন সহ্য করা রাজনৈতিক কর্মী, শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী এবং সাধারণ মানুষ—সবার অবদান মিলেই রচিত হয়েছে এই গণআন্দোলনের ইতিহাস।
তিনি আরও বলেন, দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও সেই সময় নীরব দর্শক ছিলেন না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি, মানবাধিকারভিত্তিক প্রচারণা, স্মারকলিপি প্রদান এবং আন্তর্জাতিক মহলে জনমত গঠনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
নিজের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় তিনি বিএনপির বেলজিয়াম শাখার সভাপতি এবং দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশনায় ইউরোপের বিভিন্ন পর্যায়ে মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহল, নীতিনির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি বেলজিয়ামে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, স্মারকলিপি প্রদান এবং আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের কর্মসূচি পরিচালিত হয়। সেই সময়ের বিভিন্ন আলোকচিত্র, নথি এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এখনও সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এসব স্মৃতি তুলে ধরার উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত কৃতিত্ব দাবি করা নয়; বরং ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সত্যকে সংরক্ষণ করা।
বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বর্তমান বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংকটময় সময়ে দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁর নেতৃত্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
সাইদুর রহমান লিটল বলেন, “যে ইতিহাসে লক্ষ মানুষের পদচিহ্ন রয়েছে, সেই ইতিহাসকে কয়েকজন ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠীর কৃতিত্বে সীমাবদ্ধ করা ইতিহাসের প্রতি অবিচার। এতে আত্মত্যাগী মানুষদের অবদানও আড়াল হয়ে যায়।”
শেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, আমরা কৃতিত্বের প্রতিযোগিতা নয়, সত্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। কারণ ৫ আগস্ট যদি কারও হয়, তবে তা বাংলাদেশের মানুষের; যদি কারও বিজয় হয়, তবে তা গণতন্ত্রের; আর যদি কারও গৌরব হয়, তবে তা শহীদদের আত্মত্যাগের। ইতিহাস কাউকে একা মহান বানায় না, ইতিহাস মহান করে সেই জাতিকে, যারা নিজেদের সকল সন্তানের অবদানকে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করতে জানে।”
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo