নিজস্ব প্রতিবেদক,
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার বেতিল চর এলাকায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় স্থানীয়দের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হামলাকারীরা একাধিক ফলের দোকান ও স-মিলে ভাঙচুর, মারধর এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বর্বরোচিত হামলায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তিন ব্যক্তি বাদী হয়ে এনায়েতপুর থানায় পৃথক তিনটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহারে অভিযুক্ত প্রধান ব্যক্তিরা হলেন—শাহ আলম মোল্লা, রফিকুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম, জামাত আলী, রানা হোসেন, রিপন মিয়া, গোলাম হোসেন, হাসান, বারেক, নোয়া বেপারি, বেলাল হোসেন, সামাদ আলী, আমীরুল ইসলাম, কাশেম, শহিদুল ইসলাম, শাহিন ইসলাম, আসাদুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন, ছায়েদ আলী, সরোয়ার পীর সাহেবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জন।
যেভাবে শুরু হয় বিরোধ
এজাহারের বিবরণে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে এনায়েতপুর থানার বেতিল চর এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়মবহির্ভূতভাবে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এই অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে বেতিল চর এলাকার ফসলি জমি ও বসতি দ্রুত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদ করলে চক্রটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বেতিল চর এলাকার সচেতন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা নদীর তীরে গিয়ে অভিযুক্তদের বালু উত্তোলনে নিষেধ করেন। কিন্তু অভিযুক্তরা তোয়াক্কা না করে উল্টো আরও উগ্র আচরণ শুরু করে এবং এলাকাবাসীকে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
পরপর কয়েকটি হামলা ও লুটপাট
এলাকাবাসীর প্রতিবাদের জেরে ওই দিনই সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে হামলা চালায় অভিযুক্তরা:
* দোকানে হামলা ও টাকা ছিনতাই: সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বেতিল বাজারে মো. লিটন মিয়ার ফলের দোকানে চড়াও হয় হামলাকারীরা। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও এলোপাতাড়ি মারধর করে বেদনাদায়ক জখম করা হয়। একপর্যায়ে ১ নম্বর বিবাদী তার পকেটে থাকা ১৫,০০০ টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়।
* স-মিলে ভাঙচুর: একই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বেতিল কলেজ সংলগ্ন মো. আব্দুল লতিফ পলাশের ছ-মিলে (স-মিল) লাঠিসোটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা স-মিলে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
* পুকুর দখলের চেষ্টা: এছাড়া মো. আব্দুল করিম শেখের মাছ চাষের পুকুর দখলের চেষ্টা করা হয় এবং তাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনগত পদক্ষেপের দাবি
ঘটনার সময় আলামিন হোসেন, হারুন রশিদ, মাসুদের মতো স্থানীয় সাক্ষীরা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা হুমকি দিতে দিতে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সাথে আলোচনা শেষে থানায় গিয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
বালু উত্তোলন কারী রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি যৌথ মালিকানায় বালি-মাটি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করেন এবং এনায়েতপুর থানার বেতিল চর এলাকায় ভরাটকাজের জন্য যমুনা নদীপথে বালি-মাটি ক্রয় করে নিয়ে আসেন। গত চার দিন ধরে তিনি ড্রেজার মেশিন দ্বারা বেতিল চরে বালি-মাটি ভরাট করছিলেন।
এই ঘটনায় জামাত আলী বাদী হয়ে মো. আব্দুল লতিফ পলাশ, মো. আমিনুল ইসলামসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে এনায়েতপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। স্থানীয়দের সাথে আলোচনা শেষে থানায় গিয়ে মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo