"ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ, আসবাবপত্র তছনছ; টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ,রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম"
পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের কাউখালীতে নিজ বসতঘর থেকে জেসমিন বেগম (৫০) নামে এক নারীকে বিবস্ত্র অবস্থায় মৃত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য কেরামত আলীর স্ত্রী। ঘরের পেছনের দরজা ভেঙে দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করে মালামাল লুটের পর তাকে হত্যা করেছে কি না,তা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে কাউখালী উপজেলার ৫ নম্বর শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শিয়ালকাঠি চৌরাস্তা ও ভান্ডারিয়া সড়ক সংলগ্ন নিজ পাকা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান,ঘটনার রাতে জেসমিন বেগম বাড়িতে একাই ছিলেন। তিনি বাড়ির সামনের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা বাড়ির পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ঘরের আসবাবপত্র খুলে তছনছ করা হয় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কী পরিমাণ স্বর্ণালংকার,টাকা বা অন্যান্য মালামাল খোয়া গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ওই বাড়িতে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী এক কিশোর কাজ করত। তবে সে রাতে বাড়িতে থাকত না। প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে কাজে এসে ওই কিশোর জেসমিন বেগমকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়ির পেছনে যায়। সেখানে দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করে সামনের কক্ষে খাটের ওপর জেসমিন বেগমকে পড়ে থাকতে দেখে। তার শরীরের অর্ধেক অংশ খাটের ওপর এবং পা মেঝেতে ছিল। এ সময় তিনি বিবস্ত্র অবস্থায় মৃত ছিলেন।
পরে ওই কিশোরের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য,গ্রাম পুলিশ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে বিষয়টি কাউখালী থানা পুলিশকে জানানো হলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।
ঘটনাস্থলে পিরোজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি),ক্রাইম টিম,এসআরবি-৮ টিমসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও উপস্থিত হন। পরে পিরোজপুরের পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান ও রনি বলেন,সকালে জেসমিন বেগমের মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন। তার মৃত্যুর রহস্য এখনো পরিষ্কার নয়। তারা জানান,জেসমিন বেগমের স্বামী কেরামত আলী একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য। জেসমিন বেগম ইতিপূর্বে দুইবার ইউপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এবং ভবিষ্যতেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তিন মেয়ের মা জেসমিন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এবং অত্যন্ত নম্র-ভদ্র স্বভাবের ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি,প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন আগেও দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। এর পরবর্তী সময়ে রাতে তার বাবার মাটির ঘরে সিঁধ কেটে চুরির ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না,তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কাউখালী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনাটির সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছে। মরদেহের সুরতহাল ও পোস্টমর্টেম সম্পন্ন হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড,নাকি অন্য কোনো কারণে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে,তা এখনো নিশ্চিত নয়। ঘরের পেছনের দরজা ভাঙা এবং ঘরের ভেতরে তছনছের চিহ্ন পাওয়া যাওয়ায় লুটপাটের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জেসমিন বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo