কালকিনি-ডাসার (মাদারীপুর)প্রতিনিধিঃ
মুন্সী ফরহাদ হোসেন:
মাদারীপুরে কালকিনিতে পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে ইসমাইল সরদারসহ কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একটি মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগে প্রতিবাদ সভা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। রোববার সকালে ভুক্তভোগীর নিজ বাড়ি উপজেলার কয়ারিয়া এলাকায় এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ ও সরেজমিন সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার কয়ারিয়া এলাকার ফিরোজের দোকান থেকে নিয়মিত তেল ক্রয় করে আসছিলেন একই এলাকার ইসমাইল সরদার। এই তেল ক্রয়ের সুত্রে দোকানদার ফিরোজের কাছে ইসমাইল সরদারের কিছু টাকা পাওনা ছিল। ইসমাইল সেই পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে দোকানি ফিরোজ হঠাৎ করে ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এক পর্যায় ফিরোজ তার দোকানে রাখা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইসমাইলকে আঘাতের চেষ্টা করে। এতে বাধা দিয়ে উভয় পক্ষের মাঝে হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে ফিরোজ হোসেন বাদী হয়ে ইসমাইল সরদারসহ ৪জনকে জরিয়ে আসামী করে কালকিনি থানায় একটি চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করে। এ মিথ্যা মামলার অভিযোগে ভুক্তভোগী ইসমাইল সরদার ও তার পরিবার নিজ বাড়িতে একটি প্রতিবাদ সভা করেন। ভুক্তভোগী ইসমাইল সরদার ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বলেন, আমি ফিরোজের দোকান থেকে নিয়মিত তেল কিনতাম। লেনদেন সূত্রে তার কাছে আমার কিছু টাকা পাওনা ছিল। সেই পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর হামলা চালান এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করেন। এখন স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উল্টো আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তার ভাইসহ এমন কয়েকজনকেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে, যারা ঘটনার সময় ওই এলাকায় উপস্থিতই ছিলেন না। প্রত্যক্ষদর্শী মোল্লারহাট বাজারের ব্যবসায়ী রাজন হোসেন ও আবদুল হক মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন জানান, ঘটনার দিন পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে ফিরোজ হাওলাদারের সঙ্গে মামলার প্রধান আসামি ইসমাইল সরদারের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের রূপ নেয়। ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ চলাকালীন ফিরোজ হাওলাদার ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা চালালে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক বাধা দেয় এবং তার হাত থেকে অস্ত্রটি কেড়ে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয় অভিযুক্ত মামলার বাদী ফিরোজ হোসেনের দাবি তার কাছে চাদা দাবি করায়, সে মামলা করেছে। কয়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মোল্লা জানান, চাদাবাজি নয় বিষয়টি অন্য ঘটনা। এ ব্যাপারে কালকিনি থানার জহিরুল আলম জানান, বিষয়টির ব্যাপারে খোজ নিয়ে দেখবো।
web;www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo