মোঃ মাসুদ রানা ;কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি;
নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা শৌখিন মাছ শিকারিদের পলো দিয়ে মাছ ধরা এতদিন নদী, খাল ও বিলেই দেখা যেত। কিন্তু এবার ব্যতিক্রমধর্মী চিত্র দেখা গেল কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে। টিকিট কেটে পুকুরে নেমে পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসবে মেতেছেন শত শত শৌখিন শিকারি।
আজ রোববার দুপুরে উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের নিমুড়ী গ্রামের একটি বিশাল পুকুরে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। পুকুরে পলোওয়ালাদের মাছ ধরা দেখতে পুকুরের চারপাশে কয়েকশ উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। ভিড়ের কারণে পুকুর সংলগ্ন লাকসাম-বাঙ্গড্ডা-চৌদ্দগ্রাম সড়কে কিছু সময়ের জন্য যানজটের সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, পলোওয়ালারা পুকুর থেকে রুই, কাতল, বোয়াল, পাঙাশ, সিলভারকার্প, কমন কার্প, গ্রাসকার্প, শৈল, কালিবাউসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অনায়াসে ধরে থলে ও বস্তায় ভরছেন। এদিন সর্বোচ্চ ৮ কেজি ওজনের একটি সিলভারকার্প ধরা পড়ে।
জানা যায়, নিমুড়ী গ্রামের জাল, নাবালক, ইদ্রিছ, কাশেম ও ইউনুছ তাদের পুকুরটি মাছ চাষের জন্য একই গ্রামের সাইফুল ও নোমানের কাছে লিজ দেন। পরে সাইফুল ও নোমান পুকুরের সব মাছ পার্শ্ববর্তী কাদবা গ্রামের মনছুরের কাছে বিক্রি করেন।
মনছুর এরপর কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের পলো দলের সর্দার নবী মালের কাছে সম্পূর্ণ পুকুরের মাছ ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। নবী মাল এরপর প্রতি শিকারির কাছ থেকে ১২০০ টাকা করে টিকিট বিক্রি করে পুকুরে পলো দিয়ে মাছ ধরার সুযোগ দেন।
কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট, লালমাইয়ের বাগমারা, বাংলাবাজার, ভুশ্চি, সদরদক্ষিণের চৌয়ারা, কাশিনগর এবং নাঙ্গলকোটের কাদবা ও বাঙ্গড্ডাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩০ জন শিকারি এ উৎসবে অংশ নেন। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তারা পুকুরে পলো দিয়ে মাছ শিকার করেন।
লালমাই উপজেলার হাজাতখোলা থেকে আসা ইউছুপ বলেন, "১২০০ টাকার টিকিট কেটে এসেছি। রুই, কাতল, বিগহেডসহ ছোট-বড় প্রায় ২০ কেজি মাছ পেয়েছি।"
তবে কাশিনগরের শাহপুর গ্রামের আবদুর রহিমের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তিনি বলেন, "১২০০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছি, কিন্তু মাছ খুব একটা পাইনি।"
মনছুর অভিযোগ করে বলেন, "নবী মালের কাছে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় পুকুর বিক্রি করলেও তিনি আমাকে ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা দিয়েছেন। এতে আমার ৪ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।"
পুকুরে পলো দিয়ে মাছ ধরা দেখতে আসা কাদবা গ্রামের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাঈন উদ্দিন বলেন, "দলবেঁধে পুকুরে পলো দিয়ে মাছ ধরা এবারই প্রথম দেখলাম। এটা সত্যিই একটি ব্যতিক্রমধর্মী মাছ ধরার উৎসব।"
এলাকার মানুষের মতে, এমন আয়োজন স্থানীয়ভাবে নতুন বিনোদনের পাশাপাশি সাময়িক ব্যবসারও সুযোগ তৈরি করেছে।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo