শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শ্রমজীবী ও স্থানীয় মানুষের মাঝে সপ্তাহব্যাপী প্রায় ৩ হাজার ফলদ চারা বিতরণ
মোঃ নুরুজ্জামান খোকন, কাউখালী (পিরোজপুর):
“গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান”—প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব ইসলামে বিশেষভাবে স্বীকৃত। মানুষের উপকারে আসে এমন কাজকে সেবামূলক আমল হিসেবে বিবেচনা করে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় সপ্তাহব্যাপী ফলদ গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে আলোর দিশারী ফাউন্ডেশন।
শিক্ষা, দাওয়াহ ও সেবামূলক এ সামাজিক প্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর কাউখালীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণের মাঝে প্রায় ৩ হাজার ফলদ গাছের চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী চারা বিতরণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় সোনাকুর ফেরিঘাটে খেয়াঘাটের খেয়াওয়ালা, অটোচালক, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, স্থানীয় দোকানদার ও সাধারণ মানুষের মাঝে প্রায় ৪০০টি ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলোর দিশারী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মু. জামিনুল হক জামিল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের অফিস সম্পাদক তরিকুল ইসলাম রনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হোন্ডা মালিক সমিতির সভাপতি মনির হোসেন, অটো মালিক সমিতির সভাপতি মিন্টু, খেয়াঘাটের শ্রমিক নেতা মাহাবুব ইব্রাহিমসহ বিভিন্ন শ্রমিক নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া ফাউন্ডেশনের সদস্য বাদল খান, কাউসার, মোস্তাক, রাকিবসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর মেঘপাল নূরানী মাদ্রাসা, চায়না হেফজ ও এতিমখানা এবং আরএসডিএম দাখিল মাদ্রাসায় মোট ৪০০টি চারা বিতরণ করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ বেতকা নূরানী হিফজ ও এতিমখানায় ১৫০টি এবং ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তর হোগলা নূরানী মাদ্রাসা ও দক্ষিণ হোগলা হান্নানকারী সাহেবের নূরানী মাদ্রাসায় মোট ২০০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিতে ছাতক কমলা, চায়না কমলা, আম, লেবু ও আমড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি, বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে গাছ লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরাই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মু. জামিনুল হক জামিল বলেন, “গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, মানুষের খাদ্য ও জীবিকারও উৎস। ইসলামে মানুষের উপকারে আসে এমন কাজকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের কল্যাণে বৃক্ষরোপণকে আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছি।”
তিনি আরও বলেন, কাউখালীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় পর্যায়ক্রমে চারা বিতরণ করা হচ্ছে। শুধু চারা বিতরণ নয়, এগুলো রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তোলার জন্যও সবাইকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের সম্মানিত উপদেষ্টা অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, সাবেক মেম্বার জাকির হোসেন, নূরানী মাদ্রাসার পরিচালক ইমরান মোল্লাসহ এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, আলোর দিশারী ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় উত্তর হোগলা নতুন বাজার এবং শাখা অফিস কাউখালী সদরে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা, দাওয়াহ ও বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক ভূমিকা পালন করে আসছে।
মানুষের উপকারে আসে এমন কাজের প্রতিদান দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। এ কারণে পরিবেশ রক্ষা, মানুষের কল্যাণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo