মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ৪নং দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক অঙ্গনে বইছে নতুন হাওয়ার মৃদু পতন। আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে গণসংযোগে মাঠে রয়েছেন স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের আস্থার প্রতীক, সাবেক ছাত্রনেতা এবং প্রবীণ বিএনপি নেতা আলহাজ্ব মো: রফিকুল আলম ফারুক। তিনি বর্তমানে বেলকুচি থানা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য এবং দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সফল সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দৌলতপুর পশ্চিম পাড়ার হাজী বাড়ির কৃতি সন্তান আলহাজ্ব মো: রফিকুল আলম ফারুক প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এই নেতার প্রতি এলাকাবাসীর রয়েছে গভীর ভালোবাসার প্রকাশ ও বিশাল প্রত্যাশা।
কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন
দৌলতপুর ইউনিয়নের সিংহভাগ মানুষ কৃষি ও তাঁত শিল্পের সাথে জড়িত। কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের ঘামে গড়া এই জনপদের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে আজীবন সোচ্চার থেকেছেন আলহাজ্ব মো: রফিকুল আলম ফারুক। খেটে খাওয়া মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং তাদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে তিনি সর্বদা বদ্ধপরিকর। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে প্রাধান্য পেয়েছে খেটে খাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার ও জীবনমানের উন্নয়ন। ইউনিয়নের কৃষক সমাজ তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য এবং সার-বীজের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে তাকে আগামী দিনে তাদের কান্ডারি হিসেবে দেখতে চান।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন: স্কুল, কলেজ, কবরস্থান ও রাস্তাঘাট
দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের নানা দিক থেকে পিছিয়ে থাকা দৌলতপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন এই প্রার্থী।
তার উন্নয়ন ভাবনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে:
শিক্ষা খাতের প্রসার: ইউনিয়নের স্কুল ও কলেজগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন। তিনি শিক্ষার প্রসারে এক ধাপ এগিয়ে থেকে ঐতিহ্যবাহী দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দৌলতপুর তালিমুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার: স্থানীয় কবরস্থানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, পরিধি বৃদ্ধি এবং চারপাশ প্রাচীর দিয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত করা।
যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন: কাঁচা রাস্তাগুলো পাকাকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খালের ওপর ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ জনবান্ধব করা।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা
দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আলহাজ্ব মো: রফিকুল আলম ফারুক আজ সর্বস্তরের মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। দৌলতপুর ইউনিয়নে হিন্দু, মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষ সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করে আসছেন। সংকটে-সম্ভাবনায় তিনি যেভাবে সবসময় নির্বিশেষে সবার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে দলমত নির্বিশেষে ইউনিয়নবাসী তাকে তাদের আপনজন বলে মনে করেন। তিনি একজন প্রকৃত দানবীর; শুধু দৌলতপুর ইউনিয়নেই নয়, আশেপাশের গ্রামগুলোতেও তিনি সমানভাবে দান-সদকা করে আসছেন। এই অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতাই তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের থেকে এক ধাপ এগিয়ে রেখেছে।
সমাজসেবা ও স্বাস্থ্যখাতে অবদান
সেবামূলক কার্যক্রমেও এই পরিবার ও প্রার্থী কখনো পিছিয়ে নেই। অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষদের বিনা পয়সায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন এই হাজী বাড়ির সন্তানেরা। এমনকি গ্রামে যাদের ঘরবাড়ি নেই, তাদের ঘর তৈরি করে দিয়েছেন তারা। আগামীতেও এই প্রক্রিয়ায় অসহায়দের পাশেই থাকবে এই হাজী বাড়ির সন্তানেরা তথা ফারুক হাজী।
মাদকের বিরুদ্ধে আপসহীন ও কঠোর অবস্থান
তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন আলহাজ্ব মো: রফিকুল আলম ফারুক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দৌলতপুর ইউনিয়নকে একটি মাদকমুক্ত, অপরাধমুক্ত এবং শান্তিপ্রিয় জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে তার প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার। মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা
ইউনিয়ন পরিষদের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের দীর্ঘদিনের হয়রানি ও দুর্নীতির অবসান ঘটাতে চান এই অভিজ্ঞ নেতা। জন্মনিবন্ধন, ভিজিডি কার্ড, বয়স্ক ভাতা কিংবা সরকারি যেকোনো সহায়তা প্রাপ্তিতে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা উৎকোচ লেনদেন বরদাস্ত করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ এবং জনবান্ধব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই তার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডা।
তৃণমূলের কণ্ঠস্বর: সাধারণ মানুষের অনুভূতি
কৃষক আব্দুল বারিক বলেন:
"আমাদের সুখ-দুঃখে ফারুক ভাইকে আমরা সবসময় পাশে পেয়েছি। তিনি শুধু একজন নেতাই নন, তিনি আমাদের অভিভাবক। আমাদের চাষাবাদের প্রয়োজনে তিনি যেভাবে সবসময় খোঁজখবর রাখেন, তাতে আমরা বিশ্বাস করি তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে কৃষকদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে।"
বিধবা জোসনা খাতুন বলেন:
"স্বামী মারা গেছে পাঁচ বছর, তখন থেকেই আমি সহ প্রায় ৫০ জন মহিলাকে প্রতিমাসে ১০ কেজি করে চাল দিয়ে যাচ্ছে হাজী বাড়ির কর্ণধাররা। কষ্টের দিনে ফারুক ভাই বহুবার আমার খোঁজ নিয়েছেন এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তিনি নির্বাচিত হলে আমাদের মতো অসহায় মানুষেরা আর অবহেলিত থাকবে না।"
বয়স্ক মহিলা আসমা বলেন:
"বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীরে চলার শক্তি কমেছে। কিন্তু ফারুক ভাইয়ের অমায়িক ব্যবহার ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা আমাদের বেঁচে থাকার সাহস জোগায়। আমরা মা-বোনেরা সবাই দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাকে মানুষের সেবা করার সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।"
প্রায় ৪০ বছরের রাজনৈতিক ও সামাজিক জনসেবার দীর্ঘ পথপরিক্রমায় সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাকে পুঁজি করে এগিয়ে চলেছেন আলহাজ্ব মো: রফিকুল আলম ফারুক। দৌলতপুর ইউনিয়নে মোট ৭২ হাজার ভোটার রয়েছে, যার মধ্যে শুধু দৌলতপুর গ্রামেই প্রায় ২২ হাজার ভোটার বসবাস করেন; আর এই বিশাল ভোটারদের প্রাণের দাবি দৌলতপুর থেকে আগামী দিনে তাকেই তারা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান। এই সচেতন ভোটাররা একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন গড়ার লক্ষে তাকেই তাদের আগামী দিনের কান্ডারি হিসেবে বেছে নিতে প্রস্তুত।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo