মোঃ মাসুদ রানা; কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি;
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ৭৯ নম্বর নয়াচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকট, শিক্ষক স্বল্পতা ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে ধুঁকছে। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও জরাজীর্ণ ভবন আর শ্রেণিকক্ষের অভাবে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয় ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়াল ও ছাদে ক্ষয়ের চিহ্ন স্পষ্ট। ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের দাবি বছরের পর বছর ধরে জানালেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি।
শ্রেণিকক্ষের সংকট এতটাই তীব্র যে একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষকরা কার্যকর পাঠদানে ব্যর্থ হচ্ছেন, শিক্ষার্থীরাও মনোযোগ হারাচ্ছে।
প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১২৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকে ৩০, প্রথমে ২৫, দ্বিতীয়তে ২, তৃতীয়তে ১৯, চতুর্থে ১৬ এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ১ জন শিক্ষার্থী। অথচ এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন মাত্র ৪ জন শিক্ষিকা। প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন শূন্য। প্রতিষ্ঠার পর আজ পর্যন্ত দপ্তরি নিয়োগ না হওয়ায় প্রশাসনিক কাজও স্থবির।
শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ পানির জন্য থাকা কলটি দীর্ঘদিন অকেজো। শৌচাগারের অবস্থাও নাজুক। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে শিশুরা।
পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ফারিয়া আক্তার বলে, “এক কক্ষে কয়েকটা ক্লাস হওয়ায় পড়ায় মন বসে না। ছোটদের চিৎকারে পড়া যায় না।” তৃতীয় শ্রেণির অর্পিতা রানী ও চতুর্থ শ্রেণির বাইজিদ হোসেন জানায়, “দেয়াল থেকে রং-পলেস্তারা খসে পড়ে। ভয়ে ভয়ে ক্লাস করি।”
স্থানীয় বাসিন্দা দিলু মিয়া বলেন, “আমার দুই নাতি এখানে পড়ে। বছরের পর বছর পার হলেও নতুন ভবন নাই। সন্তানরা যেন নিরাপদে পড়তে পারে, সেটাই চাই।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের জমির একাংশে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকায় সম্প্রসারণে জায়গা সংকট। এলাকাবাসী দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে জমি ব্যবহার করলে আধুনিক ভবন ও খেলার মাঠ সম্ভব।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাম্মী আক্তার বলেন, “প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরা পড়তে আগ্রহী। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটে কষ্ট করে ক্লাস চালাতে হচ্ছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি।”
ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ছবির আহমেদ বলেন, “শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য দ্রুত নতুন ভবন ও শিক্ষক নিয়োগ জরুরি। শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তিতাস উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ খাজা মাইনউদ্দীন ও সহকারী কর্মকর্তা এস এম আরিফুল হক বলেন, “নতুন ভবন নির্মাণের বরাদ্দ সীমিত, প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগও স্থবির। তবে নয়াচর বিদ্যালয় অগ্রাধিকার তালিকায় আছে। বরাদ্দ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের এ বিদ্যালয়টি এখনো ন্যূনতম সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত নতুন ভবন, শিক্ষক নিয়োগ, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের দাবি জানিয়েছেন।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo