শিল্পে সাহিত্য যারা জড়িত থাকেন, তারা অন্যায় করতে পারেন না;
এ এইচ এম জয়নাল আবেদীন
বিভাগীয় প্রতিনিধি(চট্রগ্রাম)
শিল্পে সাহিত্য যারা জড়িত থাকেন, তারা অন্যায় করতে পারেন না। মোহাম্মদ মুজিবুল হক ছিলেন সুস্থ সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। তিনি একজন জ্ঞানানুরাগী, সংস্কৃতিমনা ও সমাজসচেতন মানুষ। শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর আন্তরিকতা এবং রামু পাবলিক লাইব্রেরির কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান স্থানীয় মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর কর্ম, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ আমাদের কাছে চিরকাল অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে সমাজ ও সংস্কৃতির অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে তাঁর সৃজনশীল কর্ম, চিন্তা ও আদর্শ আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবে এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও আলোকিত সমাজ গঠনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
রামু পাবলিক লাইব্রেরির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক, জ্ঞানপাঠক মোহাম্মদ মুজিবুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে বক্তারা এ কথা বলেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে রামু পাবলিক লাইব্রেরি পাঠকক্ষে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিল্লুর রহমান। রামু পাবলিক লাইব্রেরির সহ-সভাপতি মাস্টার মোহাম্মদ আলম এ স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন, রামু পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক খালেদ শহীদ। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন রামু উপজেলা সভাপতি হাফেজ আহমদ।
স্মরণসভায় বক্তারা আরও বলেন, মোহাম্মদ মুজিবুল হক ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, সৃজনশীল ও কর্মনিষ্ঠ একজন মানুষ। শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পরিবেশসহ জীবনের নানা ক্ষেত্রে তিনি তাঁর মেধা, মনন ও কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষ করে নবপ্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞানভিত্তিক, মননশীল ও আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে তিনি আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। তিনি ছিলেন, একজন প্রকৃত কর্মবীর। কর্মের মধ্য দিয়েই নিজের আদর্শ ও চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। ব্যক্তিজীবনে ছিলেন নিরহংকার, দানশীল ও প্রচারবিমুখ। নিজের অবদানকে কখনো প্রচারের আলোয় তুলে ধরেননি। বরং নীরবে, নিভৃতে মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।
স্মরণসভায় প্রয়াত মোহাম্মদ মুজিবুল হকের জীবন, কর্ম, জ্ঞানচর্চা ও সমাজ-সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান স্মরণ করে বক্তৃতা করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহম্মদ, গবেষক-প্রাবন্ধিক আখতারুল আলম, কক্সবাজার জেলার সাবেক মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন, রামু ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুবীর বড়ুয়া বুলু, বাঁকখালী ফাউন্ডেশনের সভাপতি এ কে খাঁন, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী তরুণ বড়ুয়া, কক্সবাজার জেলা সংগীত শিল্পী পরিষদের সভাপতি বশিরুল ইসলাম, নাইক্ষ্যংছড়ি হাজি এম এ কালাম সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক নীলোৎপল বড়ুয়া, রামু সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ইজত উল্লাহ, শিক্ষক ও সংগীত শিল্পী মানসী বড়ুয়া, রামু লেখক পরিষদের সভাপতি হাফেজ আবুল মঞ্জুর, প্রয়াত মোহাম্মদ মুজিবুল হকের বেয়াই মোস্তাফিজুর রহমান, ছেলে তাসনিমুল হক শাওন, বড় মেয়ে তানজিনা হক অয়ন, ছোট মেয়ে ইমতাহা হক রিয়া ও বড় মেয়ের জামাতা আখলাছুর রহমান গালিব প্রমুখ। স্মরণসভা সঞ্চালনা করেন, রামু প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সোয়েব সাঈদ। স্মরণসভা শেষে দোয়া কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন, হাফেজ আবুল মঞ্জুর।
স্মরণসভায় অংশ নিয়ে প্রয়াত এই গুণী ব্যক্তির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান, চারুঅঙ্গনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সংগীত বড়ুয়া, রামু বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি দিপক বড়ুয়া, রামু প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক শওকত ইসলাম ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. আবদুল্লাহ, রামু ব্লাড ডোনার'স এসোসিয়েশনে এডমিন মোর্শেদ আলম, মানবাধিকার কর্মী রেজাউল করিম, প্রয়াত মোহাম্মদ মুজিবুল হকের স্ত্রী জাকিয়া আকতার ও পারিবারিক সদস্য সাফিয়া ফারজানা রাফি।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo