মোঃ মাসুদ রানা, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি;
কুমিল্লার মুরাদনগরে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে গৃহপরিচারিকার কাজ করছেন জুলাই শহীদ আবুল হোসেনের সহধর্মিণী লাকি আক্তার।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে আজ দিশেহারা লাকী। সন্তানদের জীবিকার তাগিদে হতদরিদ্র এ পরিবারটি বাড়ি ছেড়ে ঢাকার আশুলিয়ায় গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আবুল হোসেন, যার ফলে পরিবারটি সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। আদালতের নির্দেশে তার লাশ শনাক্ত এবং জুলাই গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও পরিবারটি এখনো দায়-দেনায় জর্জরিত।
জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার ফুলঘর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে আবুল হোসেন এলাকায় কাজকর্ম না পেয়ে পরিবার নিয়ে আশুলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন এবং রাজমিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার পরিবারে স্ত্রী, দুই ছেলে, এক বাক্প্রতিবন্ধী বোন ও মা রয়েছেন। স্বজনদের ভাষ্যমতে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার আবুল কাজকর্ম বন্ধ করে জুলাই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় ঢাকামুখী মিছিলে পুলিশের গুলিতে আবুল হোসেনসহ কয়েকজন আন্দোলনকারী প্রাণ হারান। ওই সময় পুলিশ লাশগুলো জ্বালিয়ে দিয়েছিল।
স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ ফিরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ১৯ আগস্ট সেনাবাহিনী ও ছাত্রদের চাপে বাধ্য হয়ে জিডি গ্রহণ করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। পরবর্তীতে ২৯ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে (যেখানে ভ্যানগাড়িতে লাশের স্তূপ করছে পুলিশ) গায়ে ব্রাজিলের জার্সি ও লুঙ্গি পরা অবস্থায় আবুল হোসেনকে শনাক্ত করেন তার পরিবারের সদস্যরা। তবে পুলিশ আগেই লাশ পুড়িয়ে দেওয়ায় তাদের কপালে লাশ জোটেনি। মামলার পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত ও পরিবারের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয় এবং পরবর্তীতে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে জুলাই গেজেটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পরিবারের বর্তমান মানবেতর জীবন:
আবুল হোসেন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এই শহীদপরিবারে প্রদীপ জ্বালানোর মতো কেউ নেই। দুটি শিশুসন্তান, বাক্প্রতিবন্ধী ননদ ও বৃদ্ধ শাশুড়িকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন লাকি। পরিবারের সদস্যদের আহার জোগাতে তিনি বর্তমানে বাড়ি বাড়ি ঘুরে গৃহপরিচারিকার কাজ করছেন। এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানানো হয়, পুলিশের গুলিতে আবুল হোসেন নিহত হলেও এ ঘটনায় ৩২ জনকে আসামি করে মামলা করা হলেও কোনো পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়নি।
শহীদ আবুল হোসেনের মা সালমা আক্তার বলেন, "আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের অনেক ঋণ রয়েছে। দায়-দেনায় জর্জরিত হয়ে আছি। আমার একটা প্রতিবন্ধী কন্যা আছে, তাকেও ভরণপোষণ করতে হয়। আমার পুত্রবধূ লাকি আক্তারের ওপর আমাদের ভরসা।ফ"
লাকি আক্তার বলেন, "পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আমার স্বামী। তাকে হারিয়ে আমরা বড়ই অসহায় হয়ে পড়েছি। সন্তানদের জীবিকার তাগিদে আমি এখন গৃহপরিচারিকার কাজ করি। কোথাও জুলাই শহীদের স্ত্রী পরিচয় দিই না।ফ"
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার বলেন, "আমরা পরিবারটির খবর নেব। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা এলে পৌঁছে দেব।ফ"
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo