মোঃ মাসুদ রানা (কুমিল্লা) জেলা প্রতিনিধি:
দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত এক নেতা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরে দাবি করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার চাকরিকালীন বিভিন্ন ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে তাকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, ১৯৮০ সালে চান্দিনা রেদোয়ান আহাম্মেদ কলেজে অধ্যয়নকালে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে পরিচয় ঘটে। পরে ১৯৮২ সালে এইচএসসি পাস করে দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজে ভর্তি হন এবং তৎকালীন ছাত্র সংসদের ভিপি গিয়াসউদ্দিনের হাত ধরে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ১৯৮৪ সালে ডিগ্রি পরীক্ষা শেষে চাকরির সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করলেও জগন্নাথ কলেজের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৮৮ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো দলীয় পদ গ্রহণ না করলেও বিএনপির সঙ্গে আদর্শিক সম্পর্ক বজায় রাখেন।
তিনি দাবি করেন, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষে কাজ করেন এবং পরবর্তীতে মোহনপুর ইউনিয়নে বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তার বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে ১৮টিতে তিনি ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর সঙ্গে আসামি ছিলেন। প্রতিটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে সরকারি চাকরি অব্যাহত রাখেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি জীবনে ৩২ বার বদলির মুখোমুখি হয়েছেন এবং দায়িত্ব পালনকালে শারীরিক হামলার শিকার হয়ে ১৮ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে মামলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময় সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের প্রটোকল দেওয়া, সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং ছবি তোলার বিষয়গুলো ছিল সম্পূর্ণ পেশাগত দায়িত্বের অংশ। এসব ছবিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৩ সালে অবসরে (এলপিআর) যাওয়ার পর পুনরায় প্রকাশ্যে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনেও অংশগ্রহণ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে কিছু 'হাইব্রিড' নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ছবি ছড়িয়ে তাকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, দেবিদ্বারের বিএনপির নেতাকর্মীরা তার রাজনৈতিক পরিচয় ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভূমিকা সম্পর্কে অবগত। দলের সিদ্ধান্তে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত হওয়ার পর একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, তিনি কোনো অপপ্রচারে বিচলিত নন এবং ভবিষ্যতেও বিএনপির আদর্শে অবিচল থেকে রাজনীতি চালিয়ে যাবেন।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo