মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: রাজিব হোসেন দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজপথের পরীক্ষিত ও আপসহীন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন। ছাত্ররাজনীতির আঁতুড়ঘর থেকে উঠে আসা এই জননেতা আজ দলমত নির্বিশেষে দৌলতপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের আস্থার প্রতীক ও নির্ভরতার ঠিকানায় পরিণত হয়েছেন।
রাজনৈতিক জীবন ও কারা নির্যাতন
১৯৯৬ সাল থেকে জাতীয়তাবাদী আদর্শের পতাকাতলে যুক্ত হয়ে রাজিব হোসেন তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন।
তিনি দৌলতপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি, বেলকুচি সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এবং বেলকুচি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক গণশিক্ষা সম্পাদক হিসেবে কাজ করা এই নেতা বর্তমানে বেলকুচি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন।
জনগণের অধিকার আদায়ের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজিব হোসেন ছিলেন সামনের সারির লড়াকু সৈনিক। এই আপসহীন ভূমিকার কারণে স্বৈরাচারী ও নিপীড়ক শক্তির রোষানলে পড়ে তাকে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বহুবার কারা নির্যাতন ভোগ করলেও তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই থেকে একচুলও পিছপা হননি।
কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতী মানুষের কণ্ঠস্বর
শ্রমজীবী ও মেহনতী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার লড়াইয়ে রাজিব হোসেন সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তৃণমূলের সাধারণ মানুষ তাকে তাদের সুখ-দুঃখের একমাত্র সাথী হিসেবে বিবেচনা করেন।
কৃষক জলিল (৬০): আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমাদের এই অঞ্চলে রাজিব ভাইয়ের মতো এমন দরদি নেতা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। ধান কাটতে গিয়ে সার বা সারের দাম নিয়ে যখনই বিপদে পড়েছি, তিনি নিজের মতো করে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমাদের কষ্টের কথা তিনি নিজের কষ্ট বলে মনে করেন।"
বয়স্ক মহিলা জরিনা বেগম (৬৫): বলেন, "বয়স্ক ভাতার কার্ড বা যেকোনো সরকারি সাহায্য পাওয়ার জন্য আমাদের আগে অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হতো, ঘুষ দিতে হতো। রাজিব সাব আমাদের কোনো দিন কষ্ট হতে দেননি। নিজের মায়ের মতো আমাদের খোঁজখবর রাখেন।"
ভ্যান শ্রমিক আসলাম (৩৮): জানান, "রাস্তায় পুলিশ বা চাঁদাবাজদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ ছিলাম। রাজিব ভাই আমাদের ভ্যান চালকদের অধিকারের পক্ষে সবসময় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি আমাদের ইউনিয়নের প্রতিটি শ্রমিকের মাথার ওপর ছায়া।"
তাঁত শ্রমিক সোবাহান (৪৫): বলেন, "বেলকুচি মানেই তাঁত শিল্প। কিন্তু আজ তাঁত শ্রমিকরা কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। রাজিব হোসেন আমাদের সুতা ও মজুরি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সবসময় সোচ্চার। তাঁতিদের বাঁচিয়ে রাখতে তার কোনো বিকল্প নেই।"
এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন চিত্র
ইউনিয়নের অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়নে রাজিব হোসেন এক দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। নির্বাচিত হলে তিনি দৌলতপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করতে চান:
রাস্তাঘাট: কাঁচা রাস্তাগুলোকে পাকাকরণ এবং যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা, যাতে কৃষকরা সহজে তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ভৌত অবকাঠামোর আধুনিকায়নে বিশেষ অনুদান ও তদারকি নিশ্চিত করা।
ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান: শ্মশান ও গোরস্থানগুলোর উন্নয়ন, সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থায়ী তহবিল গঠন করা।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা
দৌলতপুর ইউনিয়নে রাজিব হোসেনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার অসাম্প্রদায়িক ও উদার মানসিকতা। এখানে হিন্দু, মুসলিম কিংবা বৌদ্ধ—সব ধর্মের মানুষ তাকে সমানভাবে ভালোবাসেন ও শ্রদ্ধা করেন। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি আজ সমগ্র দৌলতপুরের গণমানুষের অভিভাবক।
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন রাজিব হোসেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমার দৌলতপুর ইউনিয়নের যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যুবসমাজকে খেলাধুলা, শিক্ষা ও সংস্কৃতিমুখী করে গড়ে তুলতে মাঠপর্যায়ে কঠোর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।"
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
ইউনিয়ন পরিষদের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা দুর্নীতির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাজিব হোসেন। তিনি বলেন, "চেয়ারম্যান পদটি কোনো ক্ষমতার উৎস নয়, এটি সেবা করার পবিত্র আমানত। দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ এবং জনবান্ধব সেবা কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। এখানে কোনো ভিজিএফ কার্ড, বয়স্ক ভাতা বা জন্ম নিবন্ধনে কোনো প্রকার দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না।"
আগামীর অঙ্গীকার
চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: রাজিব হোসেন বলেন, "আমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত দৌলতপুর ইউনিয়নের মেহনতী মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করেছি। সুখে-দুঃখে বিগত দিনে যেভাবে আপনাদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও আপনাদের অধিকার রক্ষায় আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যাব। দল-মত নির্বিশেষে একটি পরিচ্ছন্ন, উন্নত ও আধুনিক দৌলতপুর ইউনিয়ন গড়ে তুলতে আমি আপনাদের সকলের দোয়া, সমর্থন ও মূল্যবান ভোট প্রার্থনা করছি।"
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo