ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নকে আধুনিক রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান নূরে আলম
সোহরাওয়ার্দী হোসেন;
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী, তরুণ ও যুবসমাজের জনপ্রিয় মুখ এবং দীর্ঘদিন জেল-জুলুমের শিকার ত্যাগী নেতা—বেলকুচি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মো. নূরে আলম। এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে তিনি বর্তমানে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে চষে বেড়াচ্ছেন। ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নকে একটি আধুনিক 'রোল মডেল' হিসেবে গড়ে তোলাই তার রাজনৈতিক জীবনের প্রধান লক্ষ্য।
সংগ্রামের পথ বেয়ে রাজনীতিতে আগমন
রাজনীতির ময়দানে নূরে আলমের যাত্রা ছিল অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ ও সংগ্রামের। দলের আদর্শকে বুকে ধারণ করে তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। নিজের রাজনৈতিক অতীত নিয়ে তিনি বলেন:
"দলের দুঃসময়ে আমি কখনোই পিছুপা হইনি। জনগণের অধিকার আদায়ের প্রতিটি আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থেকেছি। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় আমাকে অসংখ্য মিথ্যা মামলা, হামলা, জেল-জুলুম এবং নানামুখী রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেও আমি দলের আদর্শের পথে অবিচল ছিলাম।"
এই ত্যাগ ও সংগ্রামের মানসিকতাই তাকে সাধারণ মানুষের কাছে একজন সাহসী এবং নির্ভরযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দলের প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের আত্মত্যাগের কথা বিবেচনা করে তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। দলীয় হাই কমান্ড ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের মানুষের স্বপ্ন ও তার ত্যাগের মূল্যায়ন করে তাকেই ধানের শীষের মনোনয়ন দেবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
কৃষক-শ্রমিক ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ে অঙ্গীকারবদ্ধ
নূরে আলম কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, তিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণির মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি সবসময় সোচ্চার। তার মতে, ইউনিয়নের প্রতিটি কৃষক ও শ্রমিক যদি তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও অধিকার পায়, তবেই সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব। তার নির্বাচনী পরিকল্পনায় তৃণমূল মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিশেষ রূপরেখা রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন:
"নূরে আলম ভাই সবসময় আমাদের সুসময়ে ও দুঃসময়ে পাশে থাকেন। মাঠে-ঘাটে কৃষকদের যেকোনো সমস্যায় তাকে আমরা সবসময় পাশে পেয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকার কৃষকদের ভাগ্য বদলে যাবে।"
স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল সেবা চালুর প্রতিশ্রুতি
একটি উন্নত ইউনিয়নের পরিচয় ফুটে ওঠে বয়স্ক, বিধবা ও দুস্থ মানুষের সুরক্ষার মাধ্যমে—এমনটিই বিশ্বাস করেন নূরে আলম। তিনি দায়িত্ব পেলে ইউনিয়ন পরিষদের বয়স্ক ও বিধবা ভাতার স্বচ্ছ বিতরণ শতভাগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হাতে সঠিকভাবে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে তিনি একটি ডিজিটাল ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন, যেখানে কোনো নাগরিক সেবা পেতে বিন্দুমাত্র হয়রানির শিকার হবেন না।
ইউনিয়নের বয়স্ক ও দুস্থ নারী জুলেখা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন:
"আমরা গরিব মানুষ, বয়স্ক ভাতার জন্য অনেক দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। নূরে আলম বাজান আমাদের খুব ভালোবাসে। সে কথা দিয়েছে চেয়ারম্যান হলে ঘরে ঘরে ভাতার কার্ড পৌঁছে দেবে এবং কোনো দুর্নীতি হতে দেবে না। আমরা তার জন্য দোয়া করি।"
উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা
ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মূল পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করেছেন নূরে আলম। তার লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন:
"আমি ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং প্রতিটি কাজ হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী।"
জনগণের সঙ্গে তার এই আত্মিক সম্পর্কই বর্তমানে তার সবচেয়ে বড় শক্তি। বেলকুচি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত নূরে আলম আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ইউনিয়নবাসীর আন্তরিক দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, জনগণের এই ভালোবাসার প্রতিদান তিনি কাজের মাধ্যমে দেবেন এবং ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নকে উন্নয়নের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo