মোঃ জহিরুল ইসলাম;
নির্বাচন পর্যবেক্ষকের কার্ড হাতে পেয়ে অতি উল্লাস, প্রকাশ্য শুকরিয়া আদায় কিংবা এটিকে কোনো দুর্লভ প্রাপ্তির সঙ্গে তুলনা করা একেবারেই অনভিপ্রেত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। এটি কোনো সম্মাননা নয়, কোনো পুরস্কার নয়—এমনকি ব্যক্তিগত কৃতিত্বের স্বীকৃতিও নয়।
এই কার্ড কেবলমাত্র সংরক্ষিত নির্বাচনী এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য প্রদত্ত একটি প্রশাসনিক অনুমতিপত্র। এর বেশি কিছু নয়। এটিকে বাড়িয়ে দেখানো যেমন অপ্রয়োজনীয়, তেমনি সাংবাদিকতার মর্যাদার পরিপন্থীও বটে।
নির্বাচন কমিশন কাউকে দয়া করে এই কার্ড দেয় না, আবার কাউকে বিশেষ অনুগ্রহও করে না। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ ও রিপোর্টিংয়ের সক্ষমতা, অতীত রেকর্ড এবং পেশাগত গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতেই এটি ইস্যু করা হয়। অর্থাৎ, এটি কোনো গিফট নয়—বরং দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয়তা থেকেই প্রদত্ত একটি নথি।
যারা এই কার্ডকে ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে প্রচার করছেন, তারা অনিচ্ছাকৃতভাবেই সাংবাদিকতার পেশাগত মান ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। একজন প্রকৃত সাংবাদিকের জন্য গর্বের বিষয় হওয়া উচিত দায়িত্বশীল প্রতিবেদন, সত্যনিষ্ঠ অবস্থান ও পেশাগত শালীনতা—কার্ড প্রদর্শন নয়।
অতএব, নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ডকে অহংকারের উপকরণ না বানিয়ে, এটিকে দায়িত্ব ও জবাবদিহির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করাই সময়ের দাবি।