জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী;
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়াধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালী জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ৬ষ্ঠ ব্যাচের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ১০টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর পটুয়াখালী কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য পটুয়াখালী জেলা থেকে মোট ৬২৬ জন আবেদনকারী আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১৭৪ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে ৭৫ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে, যারা ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ৬ষ্ঠ ব্যাচে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন জনাব মানিকহার রহমান প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্ন সচিব (পরিচালক অর্থ) যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ঢাকা এবং পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তামিম নূর ইসলাম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক জনাব আব্দুর রশিদ খান এবং ই-লার্নিং এন্ড আর্নিং লিমিটেড পটুয়াখালী জেলার কো-অর্ডিনেটর সহ সকল স্টাফগন।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আগামী ৭ মার্চ মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে পটুয়াখালী জেলায় শুরু হবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ৬ষ্ঠ ব্যাচ। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় অংশগ্রহণকারীদের কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংলিশ, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিংসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
এর আগে পটুয়াখালী জেলায় ইতোমধ্যে ৫টি ব্যাচে প্রায় তিন শতাধিক প্রশিক্ষণার্থী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ নিয়ে সফলভাবে আয়ের উৎস তৈরি করেছেন।
উল্লেখ্য, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই প্রকল্পটি ধাপে ধাপে সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। শুরুতে ১৬ জেলায় এবং পরে ৪৮ জেলায় সফলভাবে বাস্তবায়নের পর বর্তমানে দেশের সব জেলায় একযোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলার তরুণ-তরুণীরা ডিজিটা ল দক্ষতা অর্জন করে বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।