মোঃ মাসুদ রানা, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি;
ভোরের আলো ফুটতেই হাজারো পাখির কিচিরমিচিরে জেগে ওঠে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের ছোট্ট গ্রাম কিশোরনগর । সাদা বক আর কালো পানকৌড়ির কলকাকলিতে মুখরিত গ্রামটিকে এখন সবাই ‘পাখির গ্রাম’ নামেই চেনে।
মাত্র তিনটি বাড়ি নিয়ে গড়ে ওঠা গ্রামটিতে প্রায় এক হাজার মানুষের বসবাস। গত চার বছর ধরে প্রতি বর্ষায় পীরযাত্রাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মরহুম সিরাজুল ইসলাম মাস্টারের বাড়ির বিশাল গাছগুলোতে আশ্রয় নেয় হাজার হাজার সাদা বক ও পানকৌড়ি। বাঁশ, তেঁতুল, আম ও নারিকেল গাছে বাসা বেঁধে এখানেই ছানা ফোটায় তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বুড়িচং সদর থেকে এরশাদ ডিগ্রি কলেজের দক্ষিণের সড়ক ধরে ২ কিলোমিটার পশ্চিমে গেলেই কিশোরনগর। বিকেলে জলাশয়ের মাঝ দিয়ে যাওয়া পাকা সড়কের দুই পাশে সুপারি বাগান আর গাছভর্তি পাখির ঝাঁক দেখতে প্রতিদিন ভিড় করেন আশপাশের গোপীনাথপুর, গোসাইপুর, কণ্ঠনগরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ। ছোট দোকানে চলে ঝালমুড়ি-ফুচকার আড্ডা।
স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান ব্ল্যাক বলেন, “পাখিগুলো এখন আমাদের পরিবারেরই সদস্য। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিশোরনগরের অভয়াশ্রমটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মানুষের ভালোবাসা আর প্রকৃতির উদারতায় গড়ে ওঠা ‘পাখির গ্রাম’ কিশোরনগর যথাযথ সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে কুমিল্লার একটি উল্লেখযোগ্য প্রকৃতি-পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo