মোঃ মাসুদ রানা; কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি;
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বাঁশ কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগিনার কিল-ঘুষি ও লাথিতে ইব্রাহিম হোসেন ওরফে মরন (৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বোন নাছিমা আক্তারকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার ২৪ জুন দুপুরে উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের পৌঁছইর গ্রামের মধ্যপাড়া হাজী সৈয়দ আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইব্রাহিম হোসেন ওই গ্রামের মৃত রাজা মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পৈতৃক সম্পত্তি ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে ইব্রাহিমের সঙ্গে বোন নাছিমা বেগমের দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। নাছিমার বিয়ে হয় পাশের বাড়ির কোব্বাত মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই নাছিমা ও তার পরিবার ভাইদের ওপর অত্যাচার করতেন বলে অভিযোগ। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ছোট ভাই মহিন নাঙ্গলকোট সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে গেলেও ইব্রাহিম পৈতৃক বাড়িতেই থাকতেন।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশে বাঁশ কাটেন নাছিমা বেগম। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে ইব্রাহিমের সঙ্গে নাছিমা ও তার ছেলে অলি আহম্মদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাছিমা, তার স্বামী কোব্বাত আহম্মদ ও ছেলে অলি আহম্মদ মিলে ইব্রাহিমকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে তলপেট ও বুকে গুরুতর আঘাত পেয়ে ইব্রাহিম ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মেয়ে কলেজশিক্ষার্থী আফরোজা আক্তার অভিযোগ করেন, “ফুফু নাছিমা, ফুফা কোব্বাত ও ফুফাতো ভাই অজিউল্লাহ জোর করে বাঁশ কেটে নিচ্ছিলেন। বাবা বাধা দিলে তারা তলপেট, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।”
আফরোজা আরও বলেন, “ফুফু ও তার পরিবার আমাদের উচ্ছেদের জন্য দীর্ঘদিন নির্যাতন চালাচ্ছিল। একসময় আমরা নানার বাড়ি আইটপাড়া গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিলাম। মাসখানেক আগেও মাকে মারধর করে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। টিন কেটে মাকে উদ্ধার করা হয়।”
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নাছিমা আক্তারের বিরুদ্ধে ১৯২ সালে দেবর পেয়ার আহম্মদকে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ওই মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছিল।
নাঙ্গলকোট থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত নাছিমা বেগমকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।”
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo