মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন;
স্টাফ রিপোর্টার;
দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতী মানুষ। অথচ দীর্ঘকাল ধরে এই শ্রমজীবী মানুষগুলো তাদের ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। অধিকার আদায়ের সংগ্রাম কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি জীবন ও জীবিকার নিশ্চয়তা বিধানের লড়াই। সম্প্রতি ৫নং হারাটি ইউনিয়নের সাধারণ মেহনতী মানুষের সাথে কথা বলে তাদের বঞ্চনা, দুর্দশা এবং একই সাথে আগামীর সম্ভাবনাময় উন্নয়নের এক মর্মস্পর্শী চিত্র উঠে এসেছে।
জনগণের কণ্ঠস্বর: অধিকার ও বঞ্চনার চিত্র
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ নারী আছমা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
"আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর মতো প্রকৃত কোনো সুহৃদ আমরা দীর্ঘদিন পাইনি। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে গেলেও পেটের দায়ে এখনও আমাদের কষ্ট করতে হয়। আমরা চাই এমন একজন জনদরদী মানুষ জনপ্রধি হিসেবে নির্বাচিত হোক, যিনি সাধারণ মানুষের চোখের ভাষা বুঝবেন এবং মেহনতী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবেন।"
দিনের পর দিন রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করা ভ্যানশ্রমিক জুয়েল তার কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন,
"ভ্যান চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালাই। কিন্তু ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট আর নানা অনিয়মের কারণে আমাদের জীবনযাত্রা দিন দিন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। রক্ত-ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের ন্যায্য মজুরি ও সম্মানজনক পরিবেশ চাই। আমাদের অধিকার নিয়ে কথা বলার মতো শক্তিশালী ও সৎ নেতৃত্বের এখন বড্ড প্রয়োজন।"
কৃষিই যার জীবন-জীবিকা, সেই কৃষক আব্দুল বারেক কৃষকদের দুরবস্থার কথা জানিয়ে বলেন,
"আমরা কৃষকরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ফসল ফলাই, অথচ সার, বীজ ও সেচের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে এবং উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম থেকে বঞ্চিত হয়ে ঋণের বোঝায় জর্জরিত হই। মাঠের পর মাঠ ফসল ফলালেও আমাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটে না। কৃষকদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কেউ নেই বললেই চলে।"
রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থানের শোচনীয় দশা
গ্রামাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও সামাজিক অবকাঠামো। কিন্তু হারাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাটগুলোর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলো কাদাময় হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, যার ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী এবং সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে গিয়েও কৃষকদের অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হয়।
পাশাপাশি শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড হলেও ইউনিয়নের স্কুল ও কলেজগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন আজও অবহেলিত। মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও স্থানীয় মৃত ব্যক্তিদের চিরশায়িত হওয়ার পবিত্র স্থান—কবরস্থানগুলোর সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। চারপাশ প্রাচীরহীন থাকা এবং বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে কবরস্থানগুলো সুরক্ষার মুখে পড়ছে।
পরিবর্তনের প্রত্যয় ও আগামীর নেতৃত্ব
"জনসেবা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংকল্প আছে যার, জনপ্রতিনিধি হওয়ার অধিকার তার"—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৫নং হারাটি ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো: ছাদেকুল হক। গণঅধিকার পরিষদের আদর্শ ও নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি হারাটি ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের সেবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অবহেলিত এই জনপদের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব নেতৃত্ব। প্রার্থী মো: ছাদেকুল হক ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের দোয়া, আশীর্বাদ ও সার্বিক সমর্থন কামনা করেছেন। কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতী মানুষের অধিকার আদায় এবং রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ ও কবরস্থানের সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে হারাটি ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo