নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের চাঁপাডাল মৌজায় সরকারি খাস পুকুর ইজারা ছাড়াই মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আহসান হাবিব ভুট্টুর বিরুদ্ধে। আহসান হাবীব ভুট্টুর স্ত্রী মিনু আরা পাহাড়পুর ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী বলে জানা গেছে। সরকারি নথিতে পুকুরটি ইজারাবিহীন থাকলেও সেখানে মাছ চাষ চলায় সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আদায় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চাঁপাডাল মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৪৬৯ নম্বর দাগে প্রায় ৫৮ শতাংশ জমির ওপর পুকুরটির অবস্থান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৪৩৩ থেকে ১৪৩৫ সন মেয়াদে তিন বছরের জন্য উপজেলার কয়েকটি খাস পুকুর ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি ও প্রকাশ্য নিলামের আয়োজন করা হলেও ৪৬৯ নম্বর দাগের পুকুরটির জন্য কোনো ইজারাদার পাওয়া যায়নি।
পরে ইজারাবিহীন জলমহালটি ১৪৩৩ সনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য খাস আদায়ের লক্ষ্যে প্রকাশ্য নিলামে ইজারা দেওয়ার জন্য গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে ওই উদ্যোগেও পুকুরটি ইজারা হয়নি বলে জানা গেছে।
এর মধ্যেই সরেজমিনে গিয়ে পুকুরটিতে মাছ চাষের চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পুকুরটি আহসান হাবিব ভুট্রুর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বৈধ কোনো ইজারা ছাড়াই তিনি সেখানে মাছ চাষ করছেন বলে দাবি তাঁদের।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকারি খাস সম্পত্তি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করতে হলে আইন অনুযায়ী ইজারা নেওয়া প্রয়োজন। অথচ পুকুরটি ইজারাবিহীন থাকার পরও সেখানে মাছ চাষ চলছে। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
পুকুরটি বর্তমানে বৈধভাবে ইজারা নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে আহসান হাবিব ভুট্রুর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে অকপটে তিনি জানান,আমি পাহাড়পুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক। লিজ ছাড়াই পুকুরটিতে মাছ চাষ করছি। তিনি আরও বলেন, এলাকায় আমার প্রভাব আছে, অন্য কেউ লিজ নিলেও কাউকে মাছ চাষ করতে দেওয়া হবে না।
আহসান হাবিব ভুট্রুর স্ত্রী ও ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী মিনু আরার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁরা পুকুরটিতে মাছ চাষ করছেন। তবে পুকুরটির বৈধ ইজারা নেওয়া হয়েছে কি না এ বিষয়ে তিনি কোনো ইজারার কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পুকুরটি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন মিনু আরা।
পুকুরটি কীভাবে তাঁদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, প্রায় ১৭ বছর আগে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে পুকুরটি তাঁদের দখলে ছিল। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জোর করে সেটি নিয়ে নেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুনরায় তাঁরা ইজারা (লিজ) ছাড়াই পুকুরটিতে মাছ চাষ শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।
পাহাড়পুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান (জিল্লু মাস্টার) বলেন, পুকুরটি ইজারা হয়েছে কি না জানি না। তবে আহসান হাবীব ভুট্টু পুকুরটি পূর্বের মালিকের কাছ থেকে সমঝোতার মাধ্যমে নিয়ে মাছ চাষ করছেন বলে জানি। পূর্বের মালিকের নাম জানতে চাইলে তার নাম বলতে পারেননি তিনি।
এবিষয়ে উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাদী চৌধুরী টিপু বলেন, এব্যাপারে আমার জানা নেই। আমি পার্টি অফিসে একটি অনুষ্ঠানে আছি, পরে সাক্ষাত করেন বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
এবিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার বদলগাছী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিনের অফিসে গিয়ে তাঁকে না পেয়ে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তাঁর কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাস সম্পত্তি ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে দ্রুত তদন্ত করে পুকুরটি দখলমুক্ত করে বিধি অনুযায়ী ইজারার ব্যবস্থা করা হোক।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo