মো. সোহরাওয়ার্দী হোসেন;
স্টাফ রিপোর্টার :
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট, ছাত্র-জনতার অদম্য বিজয় এবং দেশের মুক্তিকামী মানুষের বিজয়কে স্মরণ করে প্রতীকী দিন ‘৩৬ জুলাই’ উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিএনজি অটোরিকশা ইউনিট-এর নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনের পক্ষে থেকে পাঠানো এক বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তায় এই শুভেচ্ছা ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট সংগঠক ও শ্রমিক নেতা শাহাদাৎ হোসেন লিটন। এ সময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, জুলাইয়ের এই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি আপসহীন ও সর্বাত্মক ভূমিকা রেখেছিল দেশের মেহনতি শ্রমিক সমাজ, যাদের অবদান ছিল সবার চেয়ে বেশি।
শ্রমিক সমাজের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সবার চেয়ে বেশি: শাহাদাৎ হোসেন লিটন
শ্রমিকদের অবদানের কথা স্মরণ করে শাহাদাৎ হোসেন লিটন বলেন,
"জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। তবে এই কথা অনস্বীকার্য যে, এই আন্দোলনে এ দেশের খেটে খাওয়া শ্রমিক সমাজের ভূমিকা ছিল সবার চেয়ে বেশি। যখনই দেশ স্বৈরাচারের শৃঙ্খলে বন্দি হয়েছে, তখনই রিকশাচালক, সিএনজি অটোরিকশা চালক, দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক এবং নানা পেশার মেহনতি মানুষ বুক পেতে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে। রাজপথের প্রতিটি লড়াইয়ে শ্রমিকদের রক্ত, ঘাম এবং আত্মত্যাগই চূড়ান্ত বিজয় এনে দিয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, ছাত্ররা যখন রাজপথে কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু করে, তখন মুহূর্তের মধ্যে তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় যখন সাধারণ শ্রমিকরা তাদের যানবাহন ও জীবন নিয়ে রাজপথে নেমে আসে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া, কার্ফু ভেঙে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ করা এবং রাজপথের প্রতিরোধকে টিকিয়ে রাখতে শ্রমিকরাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিল।
জুলাই অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের অবদানের প্রধান দিকসমূহ
সম্মুখসারির প্রতিরোধ ও ঢাল: স্বৈরাচারী সরকারের পেটোয়া বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের মুহুর্মুহু গুলির মুখে ছাত্র-ছাত্রীদের রক্ষার্থে শ্রমিকরা মানববলয় তৈরি করে বুক পেতে দেয়।
জরুরি সেবা ও লজিস্টিক সহায়তা: সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য পরিবহন শ্রমিকরা বিনামূল্যে বা বিনা ভাড়ায় আহত আন্দোলনকারীদের হাসপাতালে নিয়ে যান এবং জীবন বাজি রেখে জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করেন।
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা উপেক্ষা করে অংশগ্রহণ: দিন এনে দিন খাওয়া এসব শ্রমিকেরা নিজেদের পেটের টানে নয়, বরং দেশের টানে রাজপথে টানা অবস্থান নিয়ে অসহযোগ আন্দোলনকে সফল করে তোলেন।
রক্ত ও প্রাণের বলিদান: এই অভ্যুত্থানে শত শত সিএনজি চালক, রিকশাচালক ও সাধারণ শ্রমিক শহীদ হয়েছেন এবং বহু শ্রমিক চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, যা এই আন্দোলনকে সত্যিকারের গণআন্দোলনে পরিণত করেছিল।
শ্রমিক অধিকার পরিষদের উত্তরবঙ্গের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ মো. সাজু মিয়ার আত্মত্যাগ
এই দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে শ্রমিক সমাজের আত্মত্যাগের এক জ্বলন্ত প্রতীক হয়ে আছেন মো. সাজু মিয়া। তিনি শ্রমিক অধিকার পরিষদের উত্তরবঙ্গের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে সম্মুখসারিতে লড়াই করে শাহাদাতবরণ করেন। উত্তর অঞ্চলে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য।
জুলাই আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি রাজপথের লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন এবং দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা, অধিকার ও মেহনতি মানুষের নায্য পাওনা নিশ্চিত করার এই লড়াইয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। তাঁর এই শাহাদাত প্রমাণ করে যে, এ দেশের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় শ্রমিক সমাজ কখনো রক্ত দিতে পিছপা হয়নি।
শ্রমিকদের অধিকার ও নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা
বাংলাদেশ সিএনজি অটোরিকশা ইউনিট-এর পক্ষ থেকে শাহাদাৎ হোসেন লিটন বলেন, "যাঁদের রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা পরাধীনতার শিকল ভেঙে নতুন স্বাধীন দেশে নিঃশ্বাস নিচ্ছি—শহীদ সাজু মিয়াসহ সকল শহীদ শ্রমিকের সেই ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার। সড়কে আর কোনো চাঁদাবাজি, জুলুম ও হয়রানি দেখতে চাই না। একটি বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে শ্রমিক সমাজ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।"
সবশেষে, তিনি শহীদ মো. সাজু মিয়াসহ জুলাইয়ের মহান শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন, আহতদের দ্রুত সুস্থতা প্রার্থনা করেন এবং দেশবাসীকে জুলাইয়ের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo