মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার দ্রুত বিচার এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের দাবিতে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বর্ণাঢ্য গণমিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বেলকুচি থানা শাখা।
বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে বেলকুচি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল সমাবেশে মিলিত হয় মিছিলটি। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত ফেস্টুন ও ব্যানার শোভা পায়।
মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল সামাদ শেখ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি উক্ত সময়ে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট, নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
সমাবেশে বেলকুচি থানা সভাপতি মাওলানা রেজাউল করিম তার বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, "মানবতার মুক্তি ও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য ইসলামের আদর্শিক বিজয়ের বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।" তিনি আরও বলেন, জনগণ বারবার ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করলেও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা আশা তৈরি হলেও সরকার সে পথে অগ্রসর না হয়ে প্রচলিত ধারাতেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। মানবতার কল্যাণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামই একমাত্র সমাধান উল্লেখ করে তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যান্য অতিথি ও নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি:
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিরাজগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম আমিন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বেলকুচি থানা সহ-সভাপতি এম এম আনোয়ারুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস সালাম, এনায়েতপুর থানা সভাপতি মাওলানা মুক্তি আলমগীর এবং বেলকুচি থানা সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মাসুদ রানা সুজন। অনুষ্ঠানে থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের অসংখ্য নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।
শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ শেষে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের সার্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরিশেষে, ভবিষ্যতে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়ে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo