মোঃ জহিরুল ইসলাম ;সম্পাদক ও প্রকাশক;
বর্তমান সময়ে মানবাধিকার সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য ও আদর্শ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে সোচ্চার থাকার কথা থাকলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি ও কথিত সংগঠন মানবাধিকারের নাম ব্যবহার করে মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে, কিছু সংগঠন মানবাধিকার কর্মীর পরিচয়ে কার্ড বাণিজ্য, দালালী, অবৈধ শালিস বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানির মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এসব কর্মকাণ্ড শুধু মানবাধিকার আন্দোলনের ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং প্রকৃত মানবাধিকার কর্মীদের কাজকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো প্রকার যোগ্যতা বা সাংগঠনিক কাঠামো ছাড়াই নামসর্বস্ব সংগঠন গড়ে তুলে সদস্যপদ ও পরিচয়পত্র বাণিজ্য করা হচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীর পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী কিংবা সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও অবৈধ সালিশের মাধ্যমে অর্থ আদায় এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের অভিযোগও উঠছে।
মানবাধিকার একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মর্যাদাপূর্ণ বিষয়। এটি কখনো ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল বা প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হতে পারে না। প্রকৃত মানবাধিকার কর্মীরা সবসময় ন্যায়, সত্য ও মানবকল্যাণের পক্ষে কাজ করেন। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে পুরো অঙ্গনটি আজ বিতর্কিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ অবস্থায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত প্রকৃত ও নিবন্ধিত সংগঠনগুলোকে চিহ্নিত করা এবং মানবাধিকারের নামে অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ মানবাধিকারের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা বা হয়রানির সুযোগ না পায়।
মানবাধিকার মানে মানুষের অধিকার রক্ষা; কোনোভাবেই মানুষের ওপর অন্যায় প্রভাব বিস্তার বা হয়রানির মাধ্যম নয়। তাই মানবাধিকারের পবিত্র আদর্শ রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ সময়ের দাবি।
web;www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo