মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
জীবিকার তাগিদে সুদূর প্রবাসে কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের মূল্যবান ১১টি বছর। স্বপ্ন ছিল প্রবাসের কষ্ট শেষে দেশে ফিরে স্ত্রী-সন্তান ও পরিবার নিয়ে একটু শান্তিতে বাকি জীবন কাটাবেন। কিন্তু নির্মম বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন আজ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। বলছি সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার মো. রফিকুল ইসলামের কথা। কপাল আর ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ তিনি ও তাঁর স্ত্রী দুজনেই শয্যাশায়ী ও অসহায় জীবন পার করছেন।
প্রবাস জীবন ও নেমে আসা বিপর্যয়
বেলকুচি উপজেলার মবুপুর নতুন পাড়া গ্রামের মৃত নুরাল প্রামাণিকের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আর্থিক সচ্ছলতা আনতে বুকভরা আশা নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখানে টানা ১১ বছর হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার মাত্র চার মাস পরই তাঁর জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। হঠাৎ করেই প্যারালাইসিসে (পক্ষাঘাতগ্রস্ত) আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়েন রফিকুল ইসলাম।
হাতের জমানো সব অর্থ প্রবাসে ও নিজের চিকিৎসায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর যখন পরিবারটি দিশেহারা, ঠিক তখনই ঘটে আরও এক মর্মান্তিক ঘটনা। স্বামীর এমন করুণ দশা ও চরম অর্থনৈতিক অনটন সইতে না পেরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন রফিকুল ইসলামের স্ত্রী মমতা বেগম। বর্তমানে স্বামী প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় এবং স্ত্রী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে উন্মাদপ্রায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
মানবেতর দিনকাল ও আকুতি
পরিবারের উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে থাকায় এবং স্ত্রীর মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটায় বর্তমানে ওই পরিবারটিতে চুলা জ্বলাও দায় হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনের ওষুধ কেনা তো দূরের কথা, দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই দুর্ভাগা দম্পতি।
স্থানীয় প্রতিবেশীরা তাঁদের সাধ্যমতো মাঝে মাঝে সহায়তা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর মতো বিত্তবান বা স্থায়ী কোনো আয়ের উৎস নেই।
সরকারের প্রতি জোর দাবি
রফিকুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মমতা বেগমের এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, স্থানীয় প্রশাসন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
"আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই, এই অসহায় ও দুর্ভাগা পরিবারটির পাশে যেন দ্রুত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। প্যারালাইসিস রোগী রফিকুল ইসলামের চিকিৎসা ও তাঁর পরিবারের নিয়মিত ভরণপোষণের জন্য যেন একটি স্থায়ী আর্থিক সহায়তা বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।" — এলাকাবাসী।
একটি কার্যকর সরকারি সহযোগিতা কিংবা মানবিক অনুদানই পারে এই অসহায় পরিবারটির মুখে সামান্য হলেও হাসি ফোটাতে এবং তাঁদের মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo