দেবিদ্বার প্রতিনিধি:
কুমিল্লার দেবিদ্বারে আদালতে মামলা চলমান থাকা কয়েকটি বিরোধপূর্ণ জমি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ভাই সৈয়দ আবুল কায়েশ (বাবুল) ও মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে। উপজেলার ভানী ইউনিয়নের সাহারপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী খন্দকার নাজমুল আহসান।
বিরোধপূর্ণ জমি বিক্রির উদ্যোগ বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সাহারপাড় গ্রামের ওই জমির মালিকানা নিয়ে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে কোনো ধরনের বিরোধে না জড়ানোর বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এর মধ্যেই জমিগুলো বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মাহবুব আলম ও তানভির আহমেদ বলেন, সাহারপাড় গ্রামের বিরোধপূর্ণ জমিগুলো তাঁদের পরিবারের পূর্বপুরুষরা শত বছরের বেশি সময় ধরে ভোগদখল করে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, সৈয়দ আবুল কায়েশ ও মোশাররফ হোসেন বিভিন্ন ব্যক্তির সহযোগিতায় কথিত ভুয়া খতিয়ান তৈরি করে জমির মালিকানা দাবি করে আসছেন।
তাঁদের ভাষ্য, জমির মালিকানা নিয়ে প্রথমে কুমিল্লার আদালতে মামলা করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মামলাগুলো তাঁদের চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট খন্দকার নাজমুল আহসান পরিচালনা করছেন এবং তিনি মামলার একজন বাদী।
অভিযোগকারীদের দাবি, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। সম্প্রতি একটি জমি বিক্রির জন্য দলিল সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাঁদের বাধার কারণে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল সম্পাদন করা সম্ভব হয়নি বলে তাঁরা জানান।
এ ঘটনায় সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে বিরোধপূর্ণ জমি বিক্রির উদ্যোগ বন্ধ করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে সৈয়দ আবুল কায়েশ বলেন, “জমিটি আমার মায়ের সম্পত্তি। ওয়ারিশ সূত্রে আমরা এর মালিক। সেই জমি বিক্রি করতে চেয়েছি। কিন্তু তাঁরা বাধা দিয়েছেন। আদালতে মামলা চলমান থাকলেও জমি বিক্রি বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা আদালত দেননি। অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক।”
দেবিদ্বার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার দীপন কর বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমরা এ বিষয়ে অবগত রয়েছি। পরবর্তীতে অভিযোগে উল্লিখিত জমি বিক্রির জন্য দলিল করতে এলে তা সম্পাদন করা হবে না।”
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo