কুমিল্লা প্রতিনিধি;
রাজনীতি শুধু ক্ষমতা, পদ-পদবি কিংবা নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়। রাজনীতির প্রকৃত অর্থ মানুষের কাছে যাওয়া, মানুষের কথা শোনা, তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা বোঝা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন রাজনৈতিক কর্মীর সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত তাঁর মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণে কাজ করার মানসিকতা।
“রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের কাছে যাওয়া যায়, মানুষের কথা শোনা যায় এবং মানুষের সেবা করার সুযোগ তৈরি হয়। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হোক রাজনীতির মূল লক্ষ্য”—এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শন তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বেলজিয়াম বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান লিটল।
জিয়া পরিবারের আদর্শ ও বিএনপির রাজনীতির মূল ধারার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকে তিনি সবসময় জনগণের অধিকার ও কল্যাণের রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সাইদুর রহমান লিটল রাজনীতিতে জনগণের অংশগ্রহণ, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং মানুষের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যেও রাজনীতিকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক না করে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
একজন রাজনীতিবিদের জন্য মানুষের কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো জনসম্পর্ক। মানুষের সুখ-দুঃখ, সংকট, প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলো কাছ থেকে জানা ছাড়া প্রকৃত অর্থে জনকল্যাণমূলক রাজনীতি করা কঠিন। গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা প্রবাসী—সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করাই রাজনৈতিক নেতৃত্বের অন্যতম দায়িত্ব।
বিশেষ করে প্রবাসী রাজনীতির ক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি আরও বিস্তৃত। দেশের বাইরে থেকেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারেন। বেলজিয়াম বিএনপির সভাপতি হিসেবে সাইদুর রহমান লিটলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রও দেশের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁকে প্রবাসীদের ভূমিকা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানবাধিকার বিষয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।
তবে রাজনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—জনগণের সঙ্গে যোগাযোগকে শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা নির্বাচনের সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখা। মানুষের পাশে থাকা মানে শুধু সভা-সমাবেশে বক্তব্য দেওয়া নয়; বরং মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, তাদের সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা এবং সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা।
রাজনীতিতে পদ-পদবি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই পদকে মানুষের কল্যাণে কতটা কাজে লাগানো যাচ্ছে। একজন নেতা তখনই মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন, যখন তাঁর কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকে। ত্যাগ, সততা, দায়িত্ববোধ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভিত্তি শক্ত করে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা সবসময় জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে রাজপথে থেকেছেন।
সাইদুর রহমান লিটলের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—রাজনীতিকে মানুষের সেবার সুযোগ হিসেবে দেখা। এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়িত হলে রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা কেবল ক্ষমতা অর্জনের জন্য না হয়ে মানুষের কল্যাণে ভালো কাজ করার প্রতিযোগিতায় পরিণত হতে পারে। এতে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সুযোগ তৈরি হয়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও সুশাসনের প্রশ্ন আলোচিত হয়ে আসছে। এসব বিষয় বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ের নেতাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনীতি পরিচালিত হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়তে পারে।
শেষ পর্যন্ত রাজনীতির শক্তি জনগণ। জনগণের ভালোবাসা, আস্থা ও সমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। তাই রাজনীতির মূল লক্ষ্য যদি হয় মানুষের কল্যাণ, তাহলে পদ-পদবির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত প্রত্যেক রাজনৈতিক নেতার অঙ্গীকার।
সাইদুর রহমান লিটলের বক্তব্যে সেই প্রত্যাশাই প্রতিফলিত হয়—রাজনীতি হোক মানুষের কাছে যাওয়ার মাধ্যম, মানুষের কথা শোনার সুযোগ এবং মানুষের সেবা করার পথ।
— সাইদুর রহমান লিটল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo