মোঃ মাসুদ রানা, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি;
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে চার নেতার মনোনয়নের খবরে তাঁদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি বেলজিয়াম শাখার সভাপতি এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান লিটন।
অভিনন্দন বার্তায় সাইদুর রহমান লিটন বলেন, “রাজনীতির সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য পদে নয়—আদর্শে। সবচেয়ে বড় অর্জন ক্ষমতায় নয়—মানুষের বিশ্বাসে। একজন রাজনৈতিক নেতার সর্বোচ্চ সার্থকতা তখনই, যখন তাঁর দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সংগ্রাম, সততা ও দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য যথাযথ স্বীকৃতি লাভ করে।”
তিনি বলেন, “দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া শুধু একটি সাংগঠনিক পদ লাভ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দলের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুদায়িত্ব। একই সঙ্গে দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রের প্রতি গভীর অঙ্গীকারও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত।”
সাইদুর রহমান লিটন আরও বলেন, এই সম্মান ক্ষমতার কোনো অলংকার নয়; বরং এটি ত্যাগের স্বীকৃতি, বিশ্বস্ততার পুরস্কার এবং ভবিষ্যৎ ইতিহাস নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সংগ্রাম ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি
অভিনন্দন বার্তায় অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং জনাব মো. আমান উল্লাহ আমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে সাইদুর রহমান লিটন বলেন, তাঁদের রাজনৈতিক পথ কখনো সহজ ছিল না। আন্দোলন, প্রতিকূলতা, নির্যাতন, কারাবরণসহ নানা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাঁরা রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন।
তিনি বলেন, “রাজপথের মিছিল থেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়া প্রমাণ করে—আদর্শের পথে অবিচল থেকে লড়াই করলে একদিন তার যথাযথ মূল্যায়ন হয়। তাঁদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য একটি জীবন্ত পাঠশালা।”
তাঁর মতে, নেতৃত্ব কোনো সংক্ষিপ্ত পথের অর্জন নয়; ত্যাগ, ধৈর্য, আনুগত্য ও জনগণের পাশে থাকার মধ্য দিয়েই একজন প্রকৃত নেতা গড়ে ওঠেন।
প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার গুরুত্ব
অভিনন্দন বার্তায় জনাব মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর দীর্ঘ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরা হয়।
সাইদুর রহমান লিটন বলেন, “দীর্ঘ কর্মজীবনে অর্জিত প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও প্রজ্ঞা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। একজন মানুষের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা যখন দেশ ও দলের প্রয়োজনে কাজে আসে, তখন সেটিই সবচেয়ে বড় অর্জন।”
তিনি আরও বলেন, যোগ্যতা, সততা ও বিশ্বস্ততার কোনো অবসর নেই। সময়ের প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ দায়িত্বে মূল্যায়ন করা দলের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
পেশাজীবী নেতৃত্বের অনুপ্রেরণা
অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের রাজনৈতিক ও পেশাজীবী ভূমিকার প্রশংসা করে সাইদুর রহমান লিটন বলেন, পেশাগত জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েও দেশের গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রশংসনীয়।
তিনি বলেন, “একজন সত্যিকারের পেশাজীবীর দায়িত্ব শুধু নিজের পেশায় সফল হওয়া নয়; দেশ ও জাতির সংকটে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোও তাঁর নৈতিক দায়িত্ব। অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
ত্যাগ, সততা ও কর্মই হোক নেতৃত্বের পরিচয়
সাইদুর রহমান লিটন বলেন, রাজনীতিতে পদ চেয়ে পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু ইতিহাসে স্থান অর্জন করতে হয়। নেতা ঘোষণা দিয়ে হওয়া যায়, কিন্তু জননেতা হতে প্রয়োজন দীর্ঘ ত্যাগ, পরীক্ষা ও মানুষের বিশ্বাস।
তিনি বলেন, “দুঃসময়ে যে নেতা আদর্শের পাশে থাকেন, সুসময়ে সম্মানের আসন তাঁরই প্রাপ্য হয়ে ওঠে। আমি বিশ্বাস করি, তাঁদের সম্মিলিত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও পেশাগত নেতৃত্ব বিএনপিকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করবে।”
তিনি আরও বলেন, তাঁদের দূরদর্শী পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত দলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে আরও সুসংহত করবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।
তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “রাজনীতিতে সাময়িক আলো নয়, প্রয়োজন আদর্শের স্থায়ী দীপ্তি। ব্যক্তিগত প্রাপ্তি নয়, প্রয়োজন মানুষের কল্যাণে আত্মনিবেদন। আর পদ নয়—ত্যাগ, সততা ও কর্মই হোক একজন নেতার প্রকৃত পরিচয়।”
সবশেষে মহান আল্লাহর কাছে নেতৃবৃন্দের সুস্থতা, দীর্ঘায়ু, প্রজ্ঞা ও সাহস কামনা করে সাইদুর রহমান লিটন বলেন, দেশ, জনগণ ও দলের অর্পিত দায়িত্ব তাঁরা সততা, বিচক্ষণতা ও সাফল্যের সঙ্গে পালন করবেন—এটাই প্রত্যাশা।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo