আবদুল মামুন ফারুকী; কক্সবাজার প্রতিনিধি;
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমার কাছে এক গভীর ও আলাদা অনুভূতির নাম। কে প্রতিষ্ঠা করলো, কীভাবে করলো, কোন প্লাটফর্ম থেকে করলো কিংবা এর পেছনের ইতিহাস—এসব প্রশ্ন আমার কাছে মুখ্য নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমার কাছে টিন-বেড়া বা ইট-সিমেন্টে গড়া কোনো ভবনের নাম নয়; প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই যেন এক একটি উজ্জ্বল আলোর ঠিকানা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে একজন মানুষ কেবল পাঠ্যবইয়ের অক্ষর শেখে না, শেখে আলোকিত মানুষ হতে। আমাদের বিবেচনার মূল বিষয় হওয়া উচিত—এই প্রতিষ্ঠান সমাজ ও রাষ্ট্রকে কী উপহার দিচ্ছে? কেমন মানের শিক্ষার্থী তৈরি করছে? আমাদের সন্তানদের কেমন স্বপ্ন দেখতে শেখাচ্ছে? জীবনের অনিশ্চিত পথেও দৃঢ়ভাবে হাঁটার শিক্ষা তারা পাচ্ছে কি না—এসব প্রশ্ন আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একটি প্রকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের ভুল থেকে উঠে দাঁড়াতে শেখায়, ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করতে উদ্বুদ্ধ করে, মানবিক হতে শেখায়, প্রশ্ন করতে সাহস জোগায়, সত্য অনুসন্ধানে আগ্রহী করে তোলে এবং হারাম-হালাল সম্পর্কে সচেতন করে। শিক্ষার্থীর চিন্তা ও বিবেকবোধ কতটুকু শানিত হচ্ছে—সেটিই হওয়া উচিত শিক্ষার সাফল্যের মানদণ্ড।
একজন শিক্ষার্থী যেন কেবল চাকরি বা ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয়, বরং দেশের দায়িত্বশীল নাগরিক ও বিবেকবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে—সে ভিত নির্মাণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম। বলা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো শিক্ষার্থীর আত্মগঠনের এক নীরব ও সুশৃঙ্খল কারখানা, যেখানে শিক্ষকই প্রধান কারিগর।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক হলেও এখনও বহু এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। বাস্তবসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও নগণ্য। উদাহরণ হিসেবে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন টইটং-এর কথা উল্লেখ করা যায়।
টইটং ইউনিয়নের সর্ববৃহৎ ৪ নম্বর ওয়ার্ডে নয় হাজারের বেশি মানুষের বসবাস হলেও সেখানে নেই কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একইভাবে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ছয় হাজার এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডে (হাজিবাজারের পূর্ব-দক্ষিণ পার্শ্বে) প্রায় সাত হাজার মানুষের বসবাস থাকলেও সেখানেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব নেই। কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও না থাকায় কৃষক, কাটুরিয়া, দিনমজুরসহ নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের শিক্ষার পথ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এইসব এলাকার মানুষের প্রত্যাশা—সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেবে। তবেই প্রকৃত অর্থে সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষের প্রতিও শিক্ষাবিস্তারের লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক; মোঃ জহিরুল ইসলাম , ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক -এ্যড: মো: নজরুল ইসলাম, নির্বাহী সম্পাদক -মো: মাইনুল কবির মূঈন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo