ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সমর্থন পাওয়ার দাবি, ঘোষণায় সুশাসন ও উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা
মো. সোহরাওয়ার্দী হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন গণঅধিকার পরিষদের শেরপুর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক স্বাধিন চন্দ্র সরকার। তিনি বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ, শেরপুর উপজেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক।
স্বাধিন চন্দ্র সরকার শেরপুরকে আধুনিক, উন্নত, বৈষম্যহীন ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এ লক্ষ্যে তিনি সুশাসন, স্বচ্ছতা, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও গণসংযোগ করছেন এবং দোয়া ও সমর্থন চাইছেন। তাঁর দাবি, ধর্ম-বর্ণ ও রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তিনি ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন।
মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’
স্বাধিন চন্দ্র সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনায় মাদক নির্মূলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি মাদক ব্যবসা, সেবন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মাদকের বিরুদ্ধে আইনি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় খেলার মাঠ উন্নয়ন এবং ক্রিকেট, ফুটবল ও ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া মাদকাসক্তির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তরুণ ও অভিভাবকদের সচেতন করতে উঠান বৈঠক, সেমিনার ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা এবং বিপথগামী তরুণদের পুনর্বাসনে উদ্যোগ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর পরিকল্পনায়।
সুশাসন ও স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি
স্বাধিন চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চান তিনি। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশান সনদসহ বিভিন্ন সেবা হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় ছাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর উন্মুক্ত সভা আয়োজনেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পনা
কৃষকদের জন্য সহায়তা কেন্দ্র চালু করে উন্নত বীজ ও সারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাধিন চন্দ্র সরকার। খামারিদের জন্য বিনামূল্যে পশুচিকিৎসা ক্যাম্প এবং সরকারি ঋণ ও ভর্তুকি প্রাপ্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথাও তাঁর ঘোষিত পরিকল্পনায় রয়েছে।
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কাঁচা রাস্তা পর্যায়ক্রমে পাকাকরণ এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ডিজিটাল সেবা
দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা, স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করা এবং বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের সরকারি ভাতা বিতরণে স্বচ্ছতা আনার কথা জানিয়েছেন এই চেয়ারম্যান প্রার্থী।
পাশাপাশি জনবহুল এলাকায় ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন চালু এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে অনলাইন হটলাইন বা অভিযোগ বক্স চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
‘দল-মতের ঊর্ধ্বে মানুষের পাশে থাকতে চাই’
গণসংযোগকালে স্বাধিন চন্দ্র সরকার বলেন, তাঁর লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য নয়; ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ইউনিয়নের সব মানুষের জন্য কাজ করা।
তিনি বলেন, “আপনার একটি মূল্যবান ভোট আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়নের চাবিকাঠি হতে পারে। ধর্ম, বর্ণ বা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে আমি আপনাদেরই সন্তান ও আজীবন সেবক হয়ে পাশে থাকতে চাই। আসুন, সবাই মিলে মাদককে না বলি এবং একটি শান্তিময়, নিরাপদ ও আদর্শ ইউনিয়ন গড়ে তুলি।”
তাঁর দাবি, গণসংযোগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক সাড়া ও সমর্থন পাচ্ছেন। তবে আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের প্রকৃত সমর্থন ও নির্বাচনী ফলাফলই তাঁর জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
web;https://www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo