বিশেষ প্রতিনিধি, মঠবাড়ীয়া (পিরোজপুর):
দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল ৯নং সাপলেজা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও এর আশপাশের অবকাঠামো। অবশেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকলিমা আক্তার এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এর উদ্যোগে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, গেইট ও আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনার সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
জানা যায়, ১৯৪৭ সালের পূর্বে নির্মিত একটি প্রাচীন কুটির বাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটিতে বসবাস করতেন বৃটিশ জমিদার এডওয়ার্ড প্যারিক্যাসপার্স সাহেব। তার পিতার নাম ছিল শিলার সাহেব। তার নাম অনুসারেই প্রথমে এলাকার নামকরণ হয় “শিলারগঞ্জ”। পরবর্তীতে আক্ষরিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নাম হয় “সাপলেজা”।
এ এলাকায় এখনও রয়েছে তিনটি প্রাচীন চুন-সুরকির গাঁথুনি ভবন, দুটি পুকুর ও ঘাটলা। এর একটিতে জমিদার পরিবার, অন্যটিতে চাপরাশি এবং আরেকটিতে আরদালী বা পেয়াদারা বসবাস করতেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
প্রায় ৪০ বছর ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা কুটির বাড়ি, ইউনিয়ন পরিষদ গেইট ও আশপাশের দুরবস্থার দিকে নজর দেন উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করেন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ।
সংস্কার কাজের মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, লেট্রিন, দেয়াল, এসি স্থাপন, গেইট নির্মাণ, কুটির বাড়ির চারপাশের লেক সংস্কার, সাপলেজা বাজারের টলশেড, পানি চলাচলের ড্রেন, লেট্রিন ও ঘাটলা উন্নয়ন।
বিশেষ করে কুটির বাড়ির পাশের লেকটিতে দীর্ঘদিন ধরে পচা ময়লা-আবর্জনা জমে পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি হচ্ছিল। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটত। সংস্কারের ফলে এখন এলাকাবাসী স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সাপলেজা ইউনিয়নের চিত্র বদলে গেছে।
এলাকাবাসী জানান, যারা এই উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেছেন তারা কোনো জনপ্রতিনিধি নন, বরং প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হয়েও মানবিকতা ও জনকল্যাণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাদের আন্তরিক উদ্যোগে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, মঠবাড়ীয়ার উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং এতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়ীয়া) আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলাল।
web;www.dainikbanglaralo.com, ✉️ banglaralodainik@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, Dainik Banglaralo