
নিজস্ব প্রতিবেদন: আব্দুল হান্নান শেখ
মোবাইলের স্ক্রিনে আঙুল ছোটাছুটি করে, অথচ পায়ের নিচের ধুলো মাখা মাটিটা আজ বড্ড অচেনা লাগে। আমরা যত বড় হচ্ছি, ততই ছোটবেলার খেলাধুলাগুলো স্মৃতির ধুলো জমা খাতার মতো কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে।একসময় বিকেল মানেই ছিল হাঁকডাক। “পড়া শেষ! মাঠে চল!” এই ডাক শুনলেই বই-খাতা ছুড়ে ফেলে দৌড়। পাড়ার মাঠ, স্কুলের বারান্দা, এমনকি বাড়ির উঠান – সবই ছিল আমাদের স্টেডিয়াম।গোল্লাছুটে দম বন্ধ করে দৌড়, দাড়িয়াবান্ধায় লাইন টেনে কৌশল, বউচিতে চোখ বেঁধে বন্ধু ধরার উত্তেজনা। কপাল কেটে যেত, হাঁটু ছিলে যেত, তবুও কেউ কাঁদত না। কারণ খেলা শেষে সবাই আবার এক টিম। আজ সেই মাঠগুলোতে বিল্ডিং উঠেছে। বাচ্চারা ছাদে বসে PUBG খেলে। গোল্লাছুটের নিয়ম এখন ইউটিউবে খুঁজতে হয়।দশ টাকা দিয়ে কেনা লাটিম সারাদিন ঘুরত। কার লাটিম বেশি শক্ত, কার মার্বেলের টিপ বেশি নিখুঁত – এটাই ছিল সম্মানের লড়াই। বৃষ্টির দিনে ঘরের মধ্যে সাতচারা, কাগজের নৌকা বানিয়ে সারা বাড়ি ভাসিয়ে দেওয়া ছিল নিত্যদিনের রুটিন।
এখন খেলনা মানে প্লাস্টিকের রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি। দামি, কিন্তু ধুলো-মাটির গন্ধ নেই। ভাঙলে মন খারাপ হয়, কিন্তু মায়ের বকা খাওয়ার মজাটা নেই।