বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
​ভাণ্ডারিয়ায় মাছে ক্ষতিকর রং মেশানোয় ৩ব্যবসায়ীকে জরিমানা; উল্লাপাড়ায় ৩টার সময় ১২নং পঞ্চক্রুশী ইউপি কার্যালয়ে তালা: সচিব রাফিজুলের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের ক্ষোভ; জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলেন এমপি রেজাউল ইসলাম রেজু; বাণী ছন্দ – ৩; দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে আলোচনায় জুয়েল মোল্লা; দেবিদ্বারে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে সক্রিয় সাইদুর রহমান লিটন; কাউখালীর মানুষের হৃদয়ে সুদীপ্ত দেবনাথ:সততা, মানবিকতা ও সুশাসনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত; কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধার; বেলকুচি ১নং সদর ইউনিয়ন উন্নয়নের রোল মডেল ও মাদকমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে চান গোলাম আজম; থানা থেকে দুই আ.লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন যুবশক্তি নেতা;

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ‘লাল ফিতায়’ বন্দি মেসার্স সওদাগর অটো রাইস মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ;

  • Update Time : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৮৬ বার পঠিত

মাসুদুর রহমান, জামালপুর প্রতিনিধি:

সরকারি কোষাগারে প্রায় ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৯০ টাকা জমা দেওয়ার পরও মাসের পর মাস বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় ইসলামপুর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের মেসার্স সওদাগর অটো রাইস মিলের ৮০০ কিলোওয়াট শিল্প বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক।
ভুক্তভোগী শিল্প উদ্যোক্তার দাবি, ডিপোজিট ওয়ার্কের আওতায় লাইন নির্মাণের জন্য সমিতির চাহিদা অনুযায়ী দুই ধাপে ৮ লাখ ৫০ হাজার ৮১৬ টাকা এবং ১০ লাখ ১৯ হাজার ৭৭৪ টাকা, অর্থাৎ মোট ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৫৯০ টাকা জমা দেওয়া হয়। এছাড়া নিরাপত্তা জামানত হিসেবে আরও ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য সরকারি কোষাগারে ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৯০ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন ২০২৬ ইসলামপুর জোনাল অফিস প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও প্রাক্কলন সম্পন্ন করে প্রকল্পের স্টেকিং শিট জামালপুর সদর দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারিং (ইএনসি) শাখায় পাঠায়। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী সরকারি টেন্ডারে প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ২১ জুন অনুষ্ঠিত টেন্ডারে রহস্যজনকভাবে এটি রাখা হয়নি। ফলে এখন পর্যন্ত কোনো ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি এবং মাঠপর্যায়ে লাইন নির্মাণের কাজও শুরু হয়নি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ইএনসি) শেখ ফরিদ এবং মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সাহিদুল ইসলাম-এর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এ বিষয়ে মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সাহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজটি বিলম্বিত হচ্ছে।”
অন্যদিকে সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ইএনসি) শেখ ফরিদ বলেন, “কাজটির অনুমোদন এখনও সম্পন্ন হয়নি। অনুমোদন হওয়ার পর ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য আরও অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।”
দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে। একদিকে জিএম ঠিকাদারের গাফিলতির কথা বললেও, অন্যদিকে ইএনসি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনো ঠিকাদারই নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী শিল্প উদ্যোক্তা বলেন, “বিদ্যুৎ সংযোগের আশায় সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছি। ব্যাংক ঋণ নিয়ে কারখানা নির্মাণ করেছি। কিন্তু সংযোগ না পাওয়ায় উৎপাদন শুরু করতে পারছি না। ঋণের সুদ বাড়ছে, লোকসানের পরিমাণও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাচ্ছি না।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দাবি, শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগে অযৌক্তিক বিলম্ব স্থানীয় শিল্পায়নের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাইন নির্মাণের কাজ শুরু, ঘটনার তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © Frilix Group
Theme Customized By BreakingNews