রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
Welcome To Our Website...
সংবাদ শিরোনাম :
৩০ আসনের ফলাফল স্থগিত ও পুনর্গণনার আবেদন জামায়াতের, শপথ স্থগিতেও আইনি উদ্যোগ; কাউখালীতে বিএনপি প্রার্থী সোহেল মনজুর সুমনকে ফুলেল শুভেচ্ছা,শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি; মোহাম্মদ আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার-কে ফুলেল শুভেচ্ছা; দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: নওগাঁর আত্রাই পেল এবার নিজস্ব এমপি; মাদারীপুর-০৩ আসনে জামানত হারালেন যারা; সংযমের বার্তায় পিরোজপুর-২ এ সোহেল মনজুর সুমনের জয়; পটুয়াখালী মরিচবুনিয়ায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহন; নওগাঁয় ভোট গণনার আগেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর, প্রিজাইডিং কর্মকর্তা প্রত্যাহার; নওগাঁর আত্রাইয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে; মাদারীপুরের তিনটি আসনে পৌঁছেছে ব্যালটসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম; কুটার খ্যাড়ে অগ্নিসংযোগ: তিনটি গরু পুড়ে মারা গেছে, গোয়ালঘরসহ দুইটি খ্যাড় ছাই; কড়া নিরাপত্তায় আত্রাইয়ের ভোট কেন্দ্রে পৌঁছানো হলো ব্যালট বাক্স ও সরঞ্জাম; মোংলায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছানো হচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম; নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে নওগাঁয় পুলিশের কড়া বার্তা অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা; আত্রাইয়ে বিএনপির উঠান বৈঠক ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায়  দোয়া অনুষ্ঠিত ; নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড: অহংকার নয়, পেশাগত দায়িত্বের সীমারেখা-সম্পাদক, দৈনিক বাংলার আলো;; হিন্দুদের বাড়িতে হুমকির অভিযোগ — রুহুল আমিন দুলাল; লালমনিরহাট-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর গাড়িবহর আটক, পরে ছেড়ে দেয় বিজিবি; নওগাঁতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত; আত্রাইয়ে বিএনপির বিশাল নির্বাচনী প্রচারণা ও পথসভা অনুষ্ঠিত;

নওগাঁয় রোদের তীব্রতায় ঝরে যাচ্ছে আমের গুটি ;

মোঃ ফিরোজ আহমেদ
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

দুই সপ্তাহের টানা তাপপ্রবাহের কারণে যেমন জনজীবন অতিষ্ঠ, তেমনই ঝড়ে পড়ছে আমের গুটি। পানি সেচসহ নানা পদ্ধতি অবলম্বন করেও ঝরে পড়া থেকে ঠেকানো যাচ্ছে না আমের গুটি। ফলে চিন্তার ভাঁজ দীর্ঘ হচ্ছে আম চাষিদের কপালে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নওগাঁয় এবছর ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আম চাষ হয়েছে, যা গতবছরের তুলনায় ৩০০ হেক্টর বেশি। প্রতি হেক্টর জমিতে ১৪ দশমিক ২৪ টন হিসেবে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার ( ২৬ এপ্রিল) বিভিন্ন আম বাগান ঘুরে দেখা যায়, সবুজ পাতায় ভরে আছে গাছ। কিন্তু নেই কাঙ্ক্ষিত আমের দেখা। গাছে গাছে আমের গুটির খরা। রোদের তীব্রতায় গাছের নিচে অসংখ্য ছোট, মাঝারি আমের গুটি ঝরে পড়ে আছে। এমন পরিস্থিতি আমের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত নওগাঁর বেশিরভাগ আম বাগানেই। চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৈরি আবহাওয়ার কারণে এবছর আম বাগানে মুকুল এসেছিল চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এরপর চলতি মাসে প্রায় ১৫ দিনের তীব্র তাপপ্রবাহে আমের বোঁটা শুকিয়ে ঝরে পড়ছে গুটি। এতে পানি সেচ ও নানা পদ্ধতি অবলম্বন করেও ঝরে পড়া ঠেকাতে পারছে না। ফলে এদিকে আম চাষে যেমন খরচ বাড়ছে অন্যদিকে আমের উৎপাদনে বিপর্যয়ের আশঙ্কাও করছেন তারা। সাপাহার উপজেলার তিলনা ইউনিয়নের আমচাষি আব্দুর রউফ বলেন, চলতি মৌসুমের শুরুতে কম ছিল মুকুল। যে মুকুল এসেছিলো সেটি টিকিয়ে রাখার জন্য পরিচর্যা করা হয়। মুকুল বের হওয়া শেষ হলে আমের গুটি আসে। কিন্তু গুটি আসার পর অনাবৃষ্টি ও তাপদাহে প্রতিদিনই আমের গুটি ঝরে পড়ছে। সামনের দিনগুলোতে এমন তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে গাছে আম টেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। একই এলাকার আরেক আমচাষি আসিফ বলেন, বাগানের আম রক্ষার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। পানি, ওষুধ দেওয়ার পরও প্রচণ্ড গরম আর রোদের কারনে আমগুলো ঝরে পড়ছে। গাছে আম টেকানো যাচ্ছে না। আবার কালবৈশাখী ঝড় হলে আম নষ্ট হবে। সব মিলিয়ে আম চাষিরা এবছর বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। বরেন্দ্র অ্যাগ্রো পার্কের উদ্যোক্তা সোহেল রানা বলেন, সাপাহার উপজেলা এমনিতেই পানি সংকটাপন্ন এলাকায়। এর মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ। কোন বৃষ্টি নেই। এ অবস্থা আরও কয়েকদিন চলতে থাকলে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ গাছ থেকে আমের গুটি ঝরে যাবে। যেসব বাগানগুলোতে সেচের ব্যবস্থা আছে সেসব বাগানগুলোতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। আর যেসব বাগানে সেচের ব্যবস্থা নেই সেসব বাগানগুলো থেকে আম ঝরে যাচ্ছে। তাই আমাদের সরকারের কাছে দাবি বাগানগুলোতে যেন সেচের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক বলেন, প্রতিবছরই স্বাভাবিকভাবে এমন সময় গাছ থেকে আমের গুটি ঝরে পড়ে। তবে এই সময়ে গাছে বাড়তি পরিচর্যা করলে অস্বাভাবিকভাবে গুটি ঝরে পড়া বন্ধ হবে। আম গাছের গোড়ায় পর্যাপ্ত সেচের পাশাপাশি প্রয়োজনে গাছের পাতায় পানি স্প্রে করা যেতে পারে। আমরা মাঠ পর্যায়ে চাষিদের আমের গুটি ঝরা রোধে সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তবে এখনো পর্যন্ত আমের উৎপাদনে বিপর্যয়ে কোন আশঙ্কা নেই। কারণ আমের গুটি ঝরে যাওয়র পরও যে পরিমাণ আম থাকবে তা দিয়েই আমাদের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Copyright © Frilix Group
প্রযুক্তি সহায়তায় মাল্টিকেয়ার