সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
Welcome To Our Website...
সংবাদ শিরোনাম :
পটুয়াখালিতে মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার বিদ্যমান সমস্যা নিরসন করনীয় ” শীর্ষক কর্মশালা” অনুষ্ঠিত; আত্রাইয়ে ইউএনও শূন্য দুর্ভোগ বারছে জনসাধারণের; মোংলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অবৈধ জাল ও পলিথিন জব্দ; মঠবাড়ীয়ায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া অনুষ্ঠান; কাউখালীতে বার্ষিক ইমাম সমাবেশ অনুষ্ঠিত; কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্রসহ ও গোলাবারুদসহ করিম শরীফ বাহিনীর ২ সহযোগী আটক; নওগাঁর আত্রাইয়ে ইফাঃ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল; নওগাঁয় বিরল গঠনের নবজাতকের জন্মের এক ঘণ্টা পর মৃত্যু; মোংলায় যৌথ অভিযানে হরিণের ৩২ কেজি মাংসসহ আটক-১ ; নওগাঁর আত্রাইয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উদ্বোধন; দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি” এনায়েতপুরে দয়াল হুজুর পাকের ইন্তেকালে শোকের ছায়া; কাউখালীতে নাগরিক উদ্যোগ এর আয়োজনে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা; নওগাঁর আত্রাইয়ে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল সেনা সদস্যের; ভান্ডারিয়ায় ৭ দিন ব্যাপি পারিবারিক গাভীপালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন; কাউখালীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ভূমি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত; আত্রাইয়ে লাঙ্গল-বলদের যুগ হারিয়ে যাচ্ছে যান্ত্রিক চাষের দাপটে; পোরশায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় নেতাকর্মীদের ঢল; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষে র্্যালি; ঐতিহাসিক তিন গুম্বুজ মসজিদ টি কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ;

ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস;

মোঃ সোহরাওয়ার্দী
ব্যুরো প্রধান রাজশাহী

১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনীর গুলিতে সলঙ্গার হাটে বিলেতি পণ্য বর্জন আন্দোলনের কর্মীসহ সাড়ে চার হাজার সাধারণ মানুষ শহীদ হন।
ব্রিটিশ শাসনামলে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অসহযোগ আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলনে জনতা উদ্বেলিত হয়ে বিলেতি পণ্য বর্জন করে স্বদেশি পণ্য ব্যবহারের সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। এমনি একটি আন্দোলনের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে সলঙ্গায়। সে সময় তৎকালীন পাবনা জেলার (বর্তমান সিরাজগঞ্জে) সলঙ্গায় একটি ব্যবসায়িক জনপদ হিসেবে সপ্তাহে দু’দিন হাট বসত। ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি ছিল বড় হাটবার। মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের কর্মীরা হাটে নামেন বিলেতি পণ্য কেনাবেচা বন্ধ করতে। আর এই স্বদেশি আন্দোলনের কর্মীদের রুখতে ছুটে আসেন পাবনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আর এন দাস, জেলা পুলিশ সুপার ও সিরাজগঞ্জ মহকুমা প্রশাসক এস কে সিনহাসহ ৪০ জন সশস্ত্র পুলিশ।
সলঙ্গার গো হাটায় ছিল বিপ্লবী স্বদেশি কর্মীদের অফিস। পুলিশ কংগ্রেস অফিস ঘেরাওপূর্বক গ্রেফতার করে মাওলানা আবদুর রশিদকে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মুক্ত করতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিদ্রোহে ফেটে পড়ে সলঙ্গার সংগ্রামী জনতা। জনতার ঢল ও আক্রোশ দেখে ম্যাজিস্ট্রেট জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য গুলি চালাতে নির্দেশ দেন। শুরু হয় বুলেট-বৃষ্টি। ৪০টি রাইফেলের মধ্যে মাত্র একটি থেকে কোনো গুলি বের হয়নি। এ রাইফেলটি ছিল একজন বাঙ্গালী পুলিশের। হত্যাকাণ্ডে হতাহতের সরকারি সংখ্যা চার হাজার পাচশত (৪৫০০) দেখানো হলেও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার মতে এর সংখ্যা দশ হাজার (১০০০০) এরও অধিক।
মাওলানা আবদুর রশিদ সলঙ্গা বিদ্রোহের মাধ্যমে উপনিবেশিক শাসনের ভিত নড়িয়ে দিয়েছিলেন। সলঙ্গার রক্তসিক্ত বিদ্রোহ শুধু বাংলার মাটিকে সিক্ত করেনি, সিক্ত করেছে সমগ্র উপমহাদেশ। যে রক্তে ভেজা পিচ্ছিল পথে অহিংস, অসহযোগ আন্দোলনে যা কিছু অর্জিত হয়েছে, তা সলঙ্গা বিদ্রোহেরই ফসল।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Copyright © Frilix Group
প্রযুক্তি সহায়তায় মাল্টিকেয়ার