
দীর্ঘদিনের দাবিতে নতুন আশার আলো, বাস্তবায়নের অপেক্ষায় এলাকাবাসী;
বিশেষ প্রতিনিধি :
বাগেরহাটের দৈবজ্ঞহাটীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের প্রস্তাবিত সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়নের দাবি এখন বাস্তব রূপ পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন, দাবি-দাওয়া ও প্রশাসনিক প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় বহুল প্রত্যাশিত এই থানা বাস্তবায়ন এখন শুধু সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যেকোনো সময় সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়নের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে—এমন প্রত্যাশায় নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় জনগণ।
সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক এবং বাগেরহাট জেলা জজ কোর্টের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি অ্যাডভোকেট শেখ নজরুল ইসলাম কাজল দীর্ঘদিন ধরে এ দাবির পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার সার্বিক তত্ত্বাবধান, নিরলস প্রচেষ্টা, সংশ্লিষ্ট মহলে যোগাযোগ এবং ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলেই প্রস্তাবিত সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়নের বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দাবি করছেন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিনের দাবিতে নতুন গতি
দৈবজ্ঞহাটী ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা—এলাকায় একটি স্বতন্ত্র থানা প্রতিষ্ঠা করা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দ্রুত পুলিশি সেবা প্রদান এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে সেলিমাবাদ থানা প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছে।
স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে কোনো ঘটনা ঘটলে অনেক দূরের থানা বা পুলিশি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য দ্রুত পুলিশি সেবা পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। একটি নতুন থানা প্রতিষ্ঠিত হলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন তারা।
অ্যাডভোকেট শেখ নজরুল ইসলাম কাজলের নেতৃত্বে আশার সঞ্চার
প্রস্তাবিত সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শেখ নজরুল ইসলাম কাজল এ দাবিকে শুধু একটি স্থানীয় দাবি হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর জনস্বার্থের বিষয় হিসেবে সামনে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিনের এই দাবি নতুন গতি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং বাস্তবায়নের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি এলাকাবাসীর প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করেছেন।
সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, তার এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়নের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নেবে।
আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তায় ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা
স্থানীয়দের ভাষ্য, সেলিমাবাদ থানা প্রতিষ্ঠা হলে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিই হবে না, বরং এলাকার সার্বিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা, সড়ক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া নতুন থানা হলে স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য পুলিশি সেবা আরও সহজলভ্য হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
ঘোষণার অপেক্ষায় এলাকাবাসী
দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের পর সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ইতোমধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শেখ নজরুল ইসলাম কাজলের সার্বিক প্রচেষ্টা ও তত্ত্বাবধানে বিষয়টি এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। যেকোনো দিন কাঙ্ক্ষিত ঘোষণা আসতে পারে—এমন আশায় দিন গুনছেন দৈবজ্ঞহাটীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ।
দীর্ঘদিনের দাবি যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি শুধু একটি নতুন থানা প্রতিষ্ঠার ঘটনা হবে না; বরং দৈবজ্ঞহাটী ও আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা, নাগরিক সেবা এবং প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
এখন তাই এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা—দীর্ঘদিনের স্বপ্নের সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দ্রুত আসুক, আর সেই ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হোক দীর্ঘ অপেক্ষার।