
মাসুদুর রহমান, জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় জুলাই যোদ্ধাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৬ জুলাই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং উপজেলা ও পৌর বিএনপির কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও নিজেদের জুলাই যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দেওয়া অনেক ব্যক্তি ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকা ব্যক্তিদের কাউকেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাদের দাবি, যাদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের স্মরণে এই আয়োজন, সেই ব্যক্তিদেরই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত রাখা হয়েছে, যা তারা অবমূল্যায়ন হিসেবে দেখছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন উঠেছে। এটি প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতির ফল, নাকি অন্য কোনো কারণে এমনটি ঘটেছে—তা নিয়েও আলোচনা চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং যথাযথ পদক্ষেপের দাবিতে আগামী রোববার সরিষাবাড়ীতে ছাত্রনেতা ও জুলাই যোদ্ধাদের উদ্যোগে মানববন্ধনের প্রস্তুতি চলছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা বলেন, “সকলকে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানের আগের দিন এ বিষয়ে সভাও করা হয়েছিল।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শুক্রবার দুপুরে জামালপুর জেলা প্রশাসকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকার এ প্রতিবেদককে বলেন, “বিষয়টি আমরা দেখব। কেন হয়েছে, কীভাবে হয়েছে—সেটি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”