
মোঃ জহিরুল ইসলাম ;সম্পাদক ও প্রকাশক ;
বর্তমান বিশ্বে বেকারত্ব একটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত উভয় শ্রেণির মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। এ অবস্থায় আত্মকর্মসংস্থান হতে পারে বেকারত্ব দূরীকরণের অন্যতম কার্যকর উপায়। আত্মকর্মসংস্থান বলতে নিজের উদ্যোগ, দক্ষতা ও পুঁজির মাধ্যমে নিজেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাকে বোঝায়।
আত্মকর্মসংস্থান ব্যক্তি ও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন ব্যক্তি যখন নিজে কোনো ব্যবসা, কৃষি খামার, অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং, হস্তশিল্প বা অন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তখন তিনি শুধু নিজের আয়ের পথই তৈরি করেন না, বরং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন। ফলে বেকারত্ব কমে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায়।
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স, ইউটিউব কনটেন্ট তৈরি, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বিভিন্ন খাতে তরুণরা সফলভাবে আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলছে। এতে তারা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে।
আত্মকর্মসংস্থান মানুষের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়ে তোলে। চাকরির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা না করে নিজস্ব উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই গড়ে তুলতে সক্ষম হন।
তাই বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র্য হ্রাস এবং দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের গুরুত্ব অপরিসীম। সরকার ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ সুবিধা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রম বাড়ানো হলে আরও বেশি মানুষ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।