
মোঃ মাসুদ রানা ;কুমিল্লা থেকে ;
রাত ৩টা। দেবিদ্বারের চায়ের দোকান, কুমিল্লা শহরের গলি, ঢাকার মেসের ছাদ — সারা বাংলাদেশে একটাই টিভি। একটাই দল। হলুদ জার্সি।
বাংলাদেশী ছেলেদের কাছে ব্রাজিল শুধু একটা দল না। এটা আবেগ। এটা ছোটবেলার রোনালদিনহো, এটা কাকার ড্রিবলিং, এটা নেইমারের কান্না। হেক্সার স্বপ্ন নিয়ে ঘুম ভাঙতো আমাদের।
কিন্তু গতরাতে নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে সেই স্বপ্নটা ভেঙে চুরমার করে দিলেন একজন — আর্লিং হালান্ড।
শুরু থেকেই ব্রাজিল আক্রমণ। ভিনি, কুনহা, মার্টিনেল্লি। কিন্তু গোলপোস্ট যেন অভিশপ্ত। ১০ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও ব্রুনো গিমারাইসের শট ঠেকিয়ে দিলেন নরওয়ের গোলকিপার নাইল্যান্ড।
বাংলাদেশের কোটি ভক্ত টিভির সামনে হাত কামড়াচ্ছিল। “গোলটা হয় না কেন?”
প্রথমার্ধে আলিসন বাঁচালেন, দ্বিতীয়ার্ধে এন্দ্রিক মিস করলেন। সময় যাচ্ছিল আর বুকের ভেতর ধুকপুক বাড়ছিল।
তারপর এলো ৮০ মিনিট। শেলদেরুপের ক্রস। আর শূন্যে উড়ে হালান্ডের বুলেট হেড। ১-০।
কুমিল্লার. বাসা . গলিতে নিস্তব্ধতা। কারো মুখে কথা নেই।
৯০ মিনিটে আবার হালান্ড। এবার নিজেই শেষ করলেন। ২-০। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হেক্সার স্বপ্ন এক লাথিতে শেষ।
যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টিতে ১ গোল শোধ দিলেন। ক্যাপ্টেনের কান্না, জার্সি মুখে চেপে ধরা। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সাথে সারা বাংলাদেশের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, ফেসবুক ভরে গেল একটা লাইনে —
“আনচেলত্তি স্যার, নেইমারকে আরও আগে নামালেন না কেন?”
৬৮ মিনিটে যখন নেইমার নামলেন, তখন খেলা প্রায় শেষ। যদি প্রথমার্ধেই নামতেন? যদি পেনাল্টিটা নেইমার নিতেন?
এই “যদি” নিয়েই আজ সারাত ঘুমাবে না বাংলাদেশের কোটি ব্রাজিল সমর্থক।
নরওয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টারে। হালান্ড-ওডেগার্ডরা ইতিহাস গড়ল। আর আমরা? আমরা আবারও ৪ বছর অপেক্ষার প্রহর গুনব।
টিভি বন্ধ করে দেয়ার পর কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র মোঃ ফাহাদ শুধু বলল, “ভাই, ব্রাজিল হারলেও ভালোবাসা হারবে না।”
কারণ বাংলাদেশী ছেলেদের কাছে ফুটবল শুধু জেতা-হারা না। এটা কান্না, এটা স্বপ্ন, এটা ব্রাজিল।
ব্রাজিল হেরে গেছে, কিন্তু আমাদের আবেগ হারেনি। হেক্সা এবার হয়নি। পরেরবার হবে ইনশাআল্লাহ। 💛