
মোঃ মাসুদ রানা ;কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি;
রবিবার ঢাকা পিজিআর সদর দপ্তরে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-এর ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কেক কাটা হয়। অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।একটি জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ তার শহীদরা। আর সেই শহীদদের রক্তের উপর দাঁড়িয়েই একটি দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র টিকে থাকে। দেবিদ্বারের বারেরা গ্রামের কৃতি সন্তান শহীদ নায়েক আবু তাহের তেমনি একজন দেশপ্রেমিক সৈনিক। যিনি ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।
শহীদ আবু তাহের শুধু একজন সৈনিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে সেক্টর-২ এর অধীনে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ করেছেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের গর্বিত সদস্য হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান। যথা: সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং কমান্ডেন্ট প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল আলম প্রমুখ।
প্রতিবছর সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হন তার পরিবারের সদস্যরা।
শহীদ নায়েক মোঃ আবু তাহের ১৯৫২ সালের ২৫ জানুয়ারি কুমিল্লা দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সাদির বক্স। তিনি ১৯৭০ সালের ০১ জুলাই পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন।
তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সেক্টর-২ এর অধীনে সক্রিয়ভাবে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টে একজন গর্বিত গার্ডস সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। সাহসী ও কর্তব্যপরায়ণ এই সদস্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
শহীদ নায়েক আবু তাহের’র ২ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তান রয়েছেন। তাদের মধ্যে *মো. সেলিম রসুলী এনএসআই’র ডেপুটি ডিরেক্টর পদে কর্মরত, অপর ছেলে মো. মাসুম রসুলী এনএসআই’র ফিল্ড অফিসার পদে কর্মরত এবং কন্যা সেলিনা আক্তার গৃহিণী।
এই সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এফএম তারেক মুন্সি বলেন, “শহীদদের রক্তের ঋণ আসলে শোধ করা যায় না। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সেই ঋণের প্রতি সম্মান জানাতে বদ্ধপরিকর।”
দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ গিয়াস উদ্দিন বলেন, “শহীদ জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি ও দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শহীদ পরিবারগুলোই আমাদের রাজনীতির মূল শক্তি।”
নেতারা আরও বলেন, “শহীদ আবু তাহের মতো দেশপ্রেমিকদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা গণতন্ত্রের কথা বলতে পারি। শহীদ তাদের পরিবারের পাশে বিএনপি সবসময় আছে এবং থাকবে।”