বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
বাজারে ঘোরাফেরা করায় ৬ শিক্ষার্থীকে শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর; নওগাঁর আত্রাইয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশঝাড়; ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নকে আধুনিক রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান নূরে আলম; কবিতাঃ দমের মেশিন; কুমিল্লায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ১৮ মামলার চার্জশিট দাখিলের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন; CSR কার্যক্রমের আওতায় আজিজনগর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার লিটারেসি সেন্টার স্থাপন; স্ত্রীকে বৈদ্যুতিক শকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড; কবিতাঃ ঈদের সেরা ঈদ; চান্দিনায় ঘরে ঢুকে পিটিয়ে গৃহকর্ত্রীকে হত্যা; কাউখালীতে নাগরিক উদ্যোগের আরজেএমএফ সদস্যদের সঙ্গে বার্ষিক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত;

শিক্ষার মানোন্নয়নে সাপ্তাহিক ছুটি এক দিন করা প্রয়োজন;

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট, ২০২৬
  • ৩২ বার পঠিত

শিক্ষার মানোন্নয়নে সাপ্তাহিক ছুটি এক দিন করা প্রয়োজন;

মোঃ জহিরুল ইসলাম ;

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু নতুন ভবন, বই কিংবা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; প্রয়োজন নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের যথাযথ দায়িত্ব পালন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ।

বর্তমানে দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুক্রবার ও শনিবার—দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। আমার মতে, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বাড়াতে পরীক্ষামূলকভাবে সাপ্তাহিক ছুটি এক দিন করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটির পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয়, ধর্মীয় ও মৌসুমি ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষের বাইরে থাকতে হয়। ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জিতেও বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ ছুটির উদাহরণ রয়েছে; এমনকি রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় পাঠদান বন্ধ ছিল।

তবে শুধু ছুটি কমিয়ে দিলেই শিক্ষার মান বাড়বে—এমনটি নয়। মূল বিষয় হলো শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করা। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বাংলাদেশে শ্রেণিকক্ষের দিনসংখ্যা থাকলেও সেই সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

সাপ্তাহিক ছুটি এক দিন করা হলে বছরে অতিরিক্ত বেশ কিছু কার্যদিবস পাওয়া যাবে। সেই সময় ব্যবহার করা যেতে পারে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস, সৃজনশীল শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং নৈতিক শিক্ষায়।

তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিশ্রাম ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

শিক্ষার মান শুধু ছুটি কমানোর মাধ্যমে নয়, বরং কার্যকর পাঠদান, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি ও উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশের সমন্বয়ে উন্নত হবে। তাই সাপ্তাহিক ছুটি এক দিন করার প্রস্তাবটি জাতীয় পর্যায়ে গবেষণা ও পরীক্ষামূলকভাবে যাচাই করে দেখা যেতে পারে। সফল হলে তা সারাদেশে বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে একটি দক্ষ, জ্ঞানভিত্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক প্রজন্ম গড়ে তোলাই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © Frilix Group
Theme Customized By BreakingNews