
মোঃ নুরুজ্জামান খোকন ;
কাউখালী(পিরোজপুর)
পিরোজপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খামকাটা এলাকায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা মো.হাফিজুল(২০)নামে ওই যুবককে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানা-নানির সঙ্গে বসবাস করে এবং স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। শিশুটির নানা মো.কামাল হাওলাদার জানান, শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে হাফিজুল শিশুটিকে খামকাটা আবাসনের পাশে শ্রমিকদলের একটি পরিত্যক্ত অফিসের ভেতরে নিয়ে যায় বলে শিশুটি পরিবারের কাছে অভিযোগ করেছে। সেখানে তার সঙ্গে ‘খারাপ কাজ’ করা হয়েছে বলেও শিশুটি জানায়। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও শিশুটি জানিয়েছে বলে দাবি করেন তার নানা।
তিনি জানান,শনিবার (২২আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শিশুটির গোপনাঙ্গে ব্যথার কথা জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা। পরে শিশুটির কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে সে ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অভিযুক্ত হাফিজুলকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার এবং হাফিজুলকে হেফাজতে নেয়।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা.স্বাগত হাওলাদার বলেন,শনিবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে পুলিশ পাঁচ বছরের একটি শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। শিশুটির অভিভাবকরা ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। পরে শিশুটিকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। গাইনি বিভাগের চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা ও সত্যতা নিশ্চিত করতে শিশুটির মেডিকেল পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
অভিযুক্ত হাফিজুলের বাড়ি পিরোজপুর সদর উপজেলার নামাজপুর-ভাইজোড়া এলাকায়। সে মৃত ওয়ারেছ মল্লিক ও হাজেরা বেগমের ছেলে। পেশায় অটোরিকশাচালক হাফিজুল তার মায়ের সঙ্গে খামকাটা এলাকায় নানাবাড়িতে বসবাস করত।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো.শরিফুল ইসলাম বলেন,‘শনিবার রাতে একটি শিশুর সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে এলাকাবাসী আটকে রেখেছেন,এমন খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
স্থানীয়দের অভিযোগ,এত অল্প বয়সী একটি শিশুর সঙ্গে এমন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে পুলিশ বলছে, অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশুটির নিরাপত্তা,চিকিৎসা ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।