
মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা পৌর এলাকায় চালা অফিসপাড়া গ্রামে অবস্থিত সুনামধন্য বেলকুচি মডেল কলেজে এক শিক্ষক অসুস্থ না হয়েও মাঝে মাঝেই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রত্যেক মাসেই ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী অধ্যাপক মোঃ আল মামুনের বিরুদ্ধে।
মডেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আল মামুনের বিরুদ্ধে ছুটির আবেদন বা মেডিকেল সার্টিফিকেট সংক্রান্ত অসংগতি এবং ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার যে অভিযোগটি উঠেছে, তা অত্যন্ত সংবেদনশীল।
শিক্ষকতার মতো দায়িত্বশীল পেশায় এই ধরনের অভিযোগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় প্রভাব ফেলে। এতে ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষা গ্রহনে চরম ক্ষতিসাধন হচ্ছে বলে জানা গেছে।
শারীরিক অসুস্থতা না থাকা সত্ত্বেও অসুস্থতার বাহানা দেখিয়ে বা ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে ছুটি ভোগ করা এবং নিয়মিত ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত থাকায় ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষকদের মাঝে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এবছর পাশের হার অত্যাধিক নিম্নমানের হয়েছে তারমধ্যে শিক্ষক যদি আরও এভাবে ক্লাস ফাঁকি দেয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসেও ১০ আগষ্ট থেকে ২৩ আগষ্ট মোট ১৩ দিন চিকিৎসা নেওয়ার কথা বলে বেলকুচি মডেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শামীম হোসেন বরাবর একটি ছুটির জন্য আবেদন করেছেন অত্র কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আল মামুন। তথ্য নিয়ে জানা যায়, আল মামুনের এই তারিখের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার কোন প্রামাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু ছুটির আবেদনের সাথে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল বিএমডিসি রেজিষ্ট্রেশন নং ৪৭৯৪৬, ডাঃ মোঃ শিমুল তালুকদার এম, বি,বি,এস,পি,জি,টি (শিশু) বি,সি,এস (স্বাস্থ্য), আর এম,ও এর একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট সংযুক্তি পাওয়া যায়।
মেডিকেল সার্টিফিকেট এর বিষয়ে ডাঃ মোঃ শিমুল তালুকদার এর সাথে কথা বলে জানা যায়, আগষ্টের ১০ তারিখে মামুন নামে এক ব্যাক্তি অসুস্থতার কথা বলে আমার সাথে পরামর্শ নেওয়ার জন্য আসছিল কিন্তু সে ২০২৩ সালে হার্টের বাইপাস অপারেশন হয়েছে এ কথা বলতে না বলতেই কান্নাকাটি শুরু করে দেয়, এমতাবস্থায় আমি তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ১০-০৮-২০২৬ থেকে ২৩ -০৮-২০২৬ পর্যন্ত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়েছি। পরে জানতে পারি সে এই সার্টিফিকেট দিয়ে কলেজে ছুটির আবেদন করেছে কিন্তু সে কোন চিকিৎসাই নেয়নি, সে যদি চিকিৎসা না নিয়ে শুধু ছুটির আবেদন করে তাহলে এটা একটা প্রতারণার শামিল। আর এভাবে যদি ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার জন্য ছুটির আবেদনের প্রমাণ মিলে এমনকি সে যদি কোন চিকিৎসা নেওয়ার কাগজপত্র দেখাতে না পারে তাকে প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার জন্য দাবি করেন তিনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা গভর্নিং বডি সাধারণত এ জাতীয় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে থাকে। ছুটির আবেদনপত্রের সাথে জমা দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটের সতত্য যাচাই করা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। এজন্য গভর্নিং বডির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে প্রশাসনিক কারণ দর্শানোর নোটিশ বা কারণ সাপেক্ষে অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এবিষয়ে মডেল কলেজ এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শামিম হোসেন বলেন, সহকারী অধ্যাপক মোঃ আল মামুন প্রত্যেক মাসেই এরকম নানা রকম তালবাহানা করে কলেজে অনুপস্থিত থাকে, তার ১০ টায় ক্লাস সে ১২ টায় আসে, এমাসে আবার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার কথা বলে ১৩ দিন ছুটির আবেদন করেছে অথচ সে কোন চিকিৎসাই নেয়নি।
ফোন করে ক্লাস ফাঁকি দেওয়া ও চিকিৎসার বিষয়ে বেলকুচি মডেল কলেজ এর সহকারী অধ্যাপক মোঃ আল মামুনের নিকট জানতে চেয়ে তার সাথে সাক্ষাতে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, এখন আমার সমস্যা আছে, আমি হাসপাতালে আছি, আমার আত্মীয় মারা গেছে, এখন দেখা করতে পারবো না, পরে দেখা করবো, এরকম অনেক তালবাহানা করে ফোন কেটে দেয়, চিকিৎসার কোন কাগজও দেখাতে পারেনি এমনকি সে আর ফোনও রিসিভ করেনি।