
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি;
কুমিল্লার দেবিদ্বার থানায় সালিশে অংশ নিতে এসে পুলিশের হাতে আটক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে মুচলেকা নিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির দেবিদ্বার উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুহতাদির যারিফ সিক্তের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার দিনগত রাতে দেবিদ্বার থানায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে দেবিদ্বার থানায় একটি সালিশে অংশ নিতে এলে সুবিল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মো. হানিফ সরকার এবং রাগুরামপুর গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতালেবকে পুলিশ আটক করে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানায় রাখা হয়।
আটকের পর পুলিশের সঙ্গে যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির নেতাদের দফায় দফায় বৈঠক হয় বলে জানা গেছে। পরে রাতে মুচলেকা নিয়ে জাতীয় যুবশক্তির নেতা মুহতাদির যারিফ সিক্তের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে এনসিপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “এনসিপি নাকি এক আজব ‘মেশিন’ তৈরি করছে! যেখানে আওয়ামী লীগকে ঢোকালে বের হয়ে আসবে—‘জুলাই যোদ্ধা’!” তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় আদর্শ, আন্দোলন ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তৈরি হওয়া উচিত; প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয় পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, সত্যতা ও জনগণের কাছে জবাবদিহি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসকে সম্মান করার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্ষেত্রেও পরিষ্কার অবস্থান থাকা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সত্ত্বেও হানিফ সরকার ও মোতালেব বর্তমানে এনসিপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তারা স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন সালিশে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জাতীয় যুবশক্তির দেবিদ্বার উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুহতাদির যারিফ সিক্ত বলেন, “নির্বাচনের সময় তারা আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং এখনো আমাদের সঙ্গে আছেন।”
আটক দুই নেতা আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা পদত্যাগ করেছেন কি না, তা তিনি বলতে পারছেন না। তাদের নামে কোনো মামলা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, সুবিল ইউনিয়নের দুই নেতাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। পরে মুচলেকা নিয়ে অ্যাডভোকেট সিক্তের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আটক দুই ব্যক্তিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
তবে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদ ও মুচলেকার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই নিশ্চিত করতে পারে।