
মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন; সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ১২নং পঞ্চক্রুশী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ে সরকারি নিয়ম অমান্য করে নির্ধারিত সময়ের আগেই তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। স্বয়ং ইউপি সচিব রাফিজুলের বিরুদ্ধেই অফিস সময়ের আগেই তালা ঝুলিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কার্ডধারী সাধারণ নারী ও সেবাগ্রহীতারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সেবা ও সামাজিক সুরক্ষা কার্ডসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দপ্তর খোলা রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ১২নং পঞ্চক্রুশী ইউনিয়ন পরিষদে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না। সম্প্রতি এর সত্যতা মিললে দেখা যায়, সেবা নিতে আসা কয়েকজন অসহায় নারী নির্ধারিত সময়ের আগেই ইউপি কার্যালয়ে উপস্থিত হন। কিন্তু ঘড়ির কাঁটায় তখন সবেমাত্র বিকেল ৩টা বেজেছে, আর প্রধান দরজায় ঝুলছে বড় তালা। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ইউপি সচিব রাফিজুল নিজেই অফিস বন্ধ করে চলে গেছেন। দিনমজুরির ব্যস্ততা ও দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসে এমন পরিস্থিতিতে পড়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেবাগ্রহীতারা।
রহিমা বেগম বলেন:
“আমরা গরিব মানুষ, সংসার চালানোর জন্য নানা কাজে ব্যস্ত থাকি। এর ফাঁকে সামাজিক সুরক্ষা কার্ডের বিভিন্ন কাজের প্রয়োজনে কষ্ট করে ইউনিয়ন পরিষদে আসি। কিন্তু এখানে এসে দেখি বিকেল ৩টার সময়ই সচিব সাহেব অফিসের দরজায় বড় তালা ঝুলিয়ে চলে গেছেন। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অফিস খোলা থাকার কথা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এভাবে সময়ের আগেই অফিস বন্ধ করে দিলে আমরা সাধারণ মানুষ সেবা পাব কোথায় এবং কার কাছে যাব?”
চম্পা বেগম বলেন:
“দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবং দিনমজুরির কাজ ফেলে আমরা সেবা পাওয়ার আশায় পরিষদে এসেছিলাম। এসে দেখি অফিস ফাঁকা আর প্রধান দরজায় তালা ঝুলছে। সচিব সাহেব কাউকে কিছু না জানিয়েই আগেভাগে অফিস বন্ধ করে চলে গেছেন। আমাদের মতো অসহায় মানুষের এই ভোগান্তি দেখার কেউ নেই? আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই, যাতে সঠিক সময়ে অফিস খোলা রাখা হয় এবং এ ধরনের দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ইউনিয়ন পরিষদ হলো প্রান্তিক মানুষের সেবা পাওয়ার মূল কেন্দ্র। সেখানে সচিব বা দায়িত্বশীলদের এ ধরনের দায়িত্বহীনতা সরকারের জনবান্ধব কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং সাধারণ মানুষকে অযথা ভোগান্তিতে ফেলে। সেবাগ্রহীতাদের এই দুর্ভোগ লাঘবে এবং অফিস সময় কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলালাবাসী।
এ বিষয়ে ১২নং পঞ্চক্রুশী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রাফিজুলের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।