মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
মোঃ আঃ হান্নান, বরিশাল৷
ভরা মৌসুমেও বরিশালে দেখা মিলছে না পর্যাপ্ত ইলিশের। যে মাছ আসছে তা অতিরিক্ত দামের কারণে কিনতে পারছেন না ক্রেতারা। পূর্বে এই মৌসুমে হাজার মণ ইলিশ আসলেও বর্তমানে ১৫০-২০০ মণ ইলিশ আসছে আড়ৎ এ। আর ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি। তবে সরবরাহ বাড়লে ইলিশের দামও কমবে বলে জানান আড়তদাররা।
বরিশালের সবচেয়ে বড় পাইকারি ইলিশের মোকাম পোর্টরোড মৎস অবতরণ কেন্দ্র পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দেড় কেজি সাইজের ইলিশ ১৯০০, ১২০০ গ্ৰাম সাইজের ১৭৫০, কেজি সাইজের ১৬৫০, ৭০০ থেকে ৯০০ গ্ৰাম সাইজের ১৪৫০, ৫০০ গ্ৰাম সাইজের ১২০০ ও ৩ পিসে এক কেজি সাইজের ইলিশ ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমান অবস্থা এমন যে অতিরিক্ত দামের কারণে ইলিশের স্বাদ ভুলতে বসেছে এক শ্রেণীর মানুষ।
পোর্টরোডের ইলিশ আড়ৎদার মেসার্স দুলাল ফিশের ম্যানেজার মো. রবিন বলেন, গত একমাস ধরেই গড়ে দেড় থেকে দুই আড়াইশ মণ ইলিশ নিয়ে ট্রলারগুলো পোর্টরোডের মোকামে আসছে। কিন্তু এমন সময় হাজার হাজার মণ ইলিশ আসার কথা। কয়েক বছর আগেও ভরা মৌসুমে পোর্টরোডের মোকামের আড়তে দিন শেষে দুইৃ হাজার মণ ইলিশ বেচাকেনা হতো।
তিনি আরও বলেন, মৌসুম অনুযায়ী বাজারে ইলিশ কম আসছে। কিন্তু চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। ইলিশ কম থাকায় ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। ক্রেতাদের চাহিদার কারণেই দাম কিছুটা বেড়েছে।
পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়ৎদার সমিতির সাবেক অর্থ সম্পাদক ইয়ার হোসেন শিকদার গনমাধ্যম কর্মীদের জানান, মোট ১৭০টি আড়তে ভরা মৌসুমে আগে প্রতিদিন এক হাজার থেকে ১২০০ মণ ইলিশ আসতো। সেখানে বর্তমানে ১৫০ থেকে ২০০ মণ পর্যন্ত আসছে। বিক্রি আগে কোটি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। এখন হচ্ছে মাত্র ৪০-৫০ লাখ টাকার
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বর্ষা মৌসুম হলেও বরিশালের পোর্ট রোডে ইলিশের আমদানি খুবই কম। বলা যায়, যেখানে স্বাভাবিক সিজনে ৩০-৫০টি ট্রলার আসত, সেখানে এখন আসছে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ ট্রলার। যাতে সব মিলিয়ে আসছে ২০০ মণের মতো ইলিশ। এ কারণে দামও অনেকটা বেশি।