রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
মাদকমুক্ত ও আধুনিক মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়ে বেলকুচির ভাঙ্গাবাড়ীতে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম জুপিটারের গণসংযোগ; চা বিক্রি করে সংসার, দুই সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন থমকে যাওয়ার পথে; আত্রাইয়ে মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করলেন ইউএনও মনিরুজ্জামান; বদলগাছীতে সরকারি খাস পুকুর দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ ; কালকিনিতে মহিলা মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ, আহত ৫; রিজভীসহ চার নেতাকে অভিনন্দন জানালেন সাইদুর রহমান লিটন; কবিতা -ছয় ঋতু ; কাউখালীতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২, নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালালেন সন্দেহভাজন; সংগ্রাম থেকে নেতৃত্বের শিখরে—বেগম খালেদা জিয়ার জীবন যেন এক রাজনৈতিক উপাখ্যান; মঠবাড়িয়ায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ সমাবেশ;

কুমিল্লা সীমান্তের অর্ধশতাধিক পথে মাদকের থাবা, বিজিবির তালিকায় ১২ ‘হটস্পট’

  • Update Time : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ৭২ বার পঠিত

মোঃ মাসুদ রানা; কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি;

কুমিল্লা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা কুমিল্লা পরিণত হয়েছে মাদকের স্বর্গরাজ্যে। জেলার ৫টি উপজেলার অর্ধশতাধিক এলাকা দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও হুইস্কিসহ বিভিন্ন মাদক বাংলাদেশে ঢুকছে। যা ছড়িয়ে পড়ছে পুরো দেশে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির তালিকায় কুমিল্লা সীমান্তের ১২টি এলাকা রয়েছে ‘হটস্পট’ হিসেবে। আইনশৃঙ্খলা কমিটির তথ্য বলছে, গত ৫ মাসে জেলায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৯২৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৪২৫টি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারত সীমান্তবর্তী কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ, সদর, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ১০৫ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণপাড়ার আশাবাড়ি-তেতাভূমি, বুড়িচংয়ের ছয়গ্রাম-চড়ানল-ভাল্লক-বাঁশতলী-নারায়ণপুর, চৌদ্দগ্রামের আমানগন্ডা, সদরের গোলাবাড়ি-নিশ্চিন্তপুর, সদর দক্ষিণের রাজেশপুর-যশপুর-সূর্যনগর এলাকা দিয়ে ফ্রি-স্টাইলে মাদক প্রবেশ করছে।
এছাড়া বৌয়ারা, যাত্রাখিল, একবালিয়া, জয়নগর, মুড়াপাড়া, কচুয়ারপাড়, ধনপুর ও সুবর্ণপুরসহ আরও বেশ কিছু পয়েন্ট দিয়ে চোরাচালান চলছে অহরহ। বিজিবির দাবি, ব্রাহ্মণপাড়ার আশাবাড়ি থেকে সালদা পর্যন্ত সীমান্তে বেড়া না থাকায় ওই খোলা অংশ দিয়ে মাদক প্রবেশ বেশি হচ্ছে। এসব মাদক সড়ক পথে ও ট্রেনে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
শুধু সীমান্ত নয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশও মাদক পরিবহনের বড় রুট। এ মহাসড়কে প্রায় প্রতিদিনই জেলা ও হাইওয়ে পুলিশের অভিযানে ইয়াবার বড় চালান জব্দ হচ্ছে। সম্প্রতি জেলা পুলিশের একটি অভিযানে ইয়াবার বিশাল চালান আটক করা হয়।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “মাদক উদ্ধার শুধু পুলিশের কাজ নয়। কুমিল্লা সীমান্তবর্তী হওয়ায় মাদকের আগ্রাসন বেশি। জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ কারণে মাদক উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তারে সারাদেশে কুমিল্লা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। আমাদের লক্ষ্য মূল ডিলারদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া। কুমিল্লা থেকে মাদক মূলোৎপাটন করতে চাই। বাহিনীর কেউ জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিজিবি কুমিল্লার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রকিবুল হাসান বলেন, “সীমান্তে চোরাচালান দমনে বিজিবি তৎপর। বিভিন্ন বিওপির টহল দল প্রতিদিন মাদক জব্দ করছে। কাঁটাতারের বেড়া নেই এমন এলাকায় চোরাকারবারিদের আনাগোনা বেশি। অনেক সময় বিজিবির অবস্থান টের পেলে তারা পণ্য ফেলে পালিয়ে যায়। মালামাল জব্দ হলেও সবাইকে আটক করা যায় না। সীমান্তে মাদক বন্ধে প্রশাসন ও স্থানীয়দের সম্মিলিত উদ্যোগ দরকার।”
কুমিল্লার বিশিষ্টজনরা বলছেন, পুলিশ-বিজিবি-র‌্যাবের অভিযান থাকলেও মাদক নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম চোখে পড়ে না। সামাজিকভাবে মানুষকে মাদক থেকে নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগও নেই বললেই চলে।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক স্থানে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সখ্যতা গড়েই মাদক ব্যবসা চালাচ্ছেন কেউ কেউ।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © Frilix Group
Theme Customized By BreakingNews