শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
সাঈদীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পিরোজপুরে দোয়া ও মোনাজাত; রাজৈরে মানবপাচার চক্রের ‘গডফাদার’ এনামুল গ্রেপ্তার; প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন আ.লীগ নেতা রাসেল; ভাঙ্গুড়ায় জান্নাত ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত; খুকনীর গণমানুষের আশা-ভরসা: কারানির্যাতিত রাজপথের লড়াকু সৈনিক মো: লিয়াকত হোসেন লাবু; অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড মেডিক্যাল প্রমোশন অফিসার মোঃ সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদক, চোরাচালান ও চেক জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ; কবিতা: চমৎকার এক চমক; নওগাঁর আত্রাইয়ে পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত কৃষকরা; ভাঙ্গুড়ায় ১৮০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক, নগদ ৬৯ হাজার টাকা উদ্ধার; তরুণ প্রজন্মের অহংকার, জেল-জুলুম উপেক্ষা করা আপসহীন জননেতা সাইদুল ইসলাম রাজ: খুকনী ইউনিয়নবাসীর আস্থার প্রতীক;

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরব- এ যৌথ বাহিনীর সমন্বয় সাঁড়াশি অভিযান শুরু ;

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৫৬ বার পঠিত

মোঃ আবুরায়হান ইসলাম মোংলা প্রতিনিধি

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-এ ফের দস্যু তৎপরতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে শুরু হয়েছে বিশেষ যৌথ সাঁড়াশি অভিযান। দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যস্ত থাকায় সেই সুযোগে বন-দস্যুরা সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একাধিক জেলে দাবি করেছেন, অস্ত্রধারী দস্যুরা ট্রলার থামিয়ে জিম্মি করে মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। মুক্তিপণ না দিলে মারধর ও ট্রলার নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।এমন পরিস্থিতিতে উপকূলীয় জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক জেলে জানিয়েছেন, সুন্দরবন পুরোপুরি দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা গভীর বনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে যাবেন না। এতে জীবিকা সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কয়েক হাজার বন-নির্ভর পরিবারের মধ্যে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, সুন্দরবনের দুবলার চর, শিবসা, পশুর, আড়পাঙ্গাশিয়া ও চাঁদপাই রেঞ্জসংলগ্ন নদীপথে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন দস্যুদের অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। যৌথ অভিযানে জলপথে দ্রুতগামী টহল নৌযান, স্পিড-বোট ও বিশেষায়িত কমান্ডো টিম মোতায়েন থাকবে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী-এর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, “সুন্দরবনে কোনো দস্যু চক্রকে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুত।”
একইসঙ্গে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উপকূলীয় নদীপথে চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন নৌযান তল্লাশি এবং বনাঞ্চলে গোপন আস্তানা চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হবে।
র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, দস্যুদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অতীতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হলেও সম্প্রতি বিচ্ছিন্ন কিছু চক্র পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসইভাবে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত রাখতে হলে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বননির্ভর মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, জেলেরা যেন নির্ভয়ে মাছ আহরণ করতে পারেন—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ অভিযানের মূল লক্ষ্য। উপকূলীয় জনপদে স্বস্তি ফেরাতে যৌথ বাহিনীর এ অভিযান কতটা সফল হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © Frilix Group
Theme Customized By BreakingNews