শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
নওগাঁর আত্রাইয়ে পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত কৃষকরা; ভাঙ্গুড়ায় ১৮০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক, নগদ ৬৯ হাজার টাকা উদ্ধার; তরুণ প্রজন্মের অহংকার, জেল-জুলুম উপেক্ষা করা আপসহীন জননেতা সাইদুল ইসলাম রাজ: খুকনী ইউনিয়নবাসীর আস্থার প্রতীক; ৪নং দৌলতপুর ইউনিয়নে পরিবর্তনের ডাক: চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের গণসংযোগে সাধারণ মানুষের জোয়ার; কাউখালীতে যুবলীগ সভাপতি আটক,বিস্ফোরক আইনে মামলা; চাঞ্চল্যকর প্রতারণা ও ভুয়া পরিচয়ে বিয়ে: চেক জালিয়াতির মিথ্যা মামলায় মধ্যবিত্ত গৃহবধূর আত্মসমর্পণ ​; চালার যাত্রী ছাউনিতে ময়লার স্তূপ, পথচারীদের ভোগান্তি; দেবিদ্বার চার মাস পর স্বদেশের মাটিতে সাইদুর রহমান লিটন, ঐক্য ও জনসেবার আহ্বান; বাছের মেমোরিয়াল একাডেমিতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান ২০২৬; পিরোজপুর সদর এমপির মোড়-বলাকা ক্লাব সড়কের বেহাল দশা, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী-জনতা;

মুন্সিগঞ্জে কাজ শেষ না করেই ৪৬ লাখ টাকার বিল উপ সহকারী প্রকৌশলীর সহযোগিতায় উত্তোলনের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস;

  • Update Time : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪০ বার পঠিত

নিজস্ব সংবাদদাতা:

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাথরুম ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কাজ সম্পূর্ণ না করেই উপজেলা উপ সহকারী প্রকৌশলীর সহযোগিতায় প্রায় ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিল উত্তোলন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাম্মেল এন্টারপ্রাইজ। এ ঘটনায় শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে লৌহজং উপজেলা প্রকৌশলী শান্তনু ঘোষ সাগর বলেন, “আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, PEDP-4 প্রকল্পের আওতায় এলজিইডির বাস্তবায়নে দিঘলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আটিগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বনস্যান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের জন্য ৫৬ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা প্রাক্কলন করা হয়। পরে মেসার্স মোজাম্মেল এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে ৪৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৯ টাকায় চুক্তি সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে একই বছরের ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, কাজ সম্পূর্ণ না হলেও ২০২৬ সালের ২৩ মে প্রকল্পের সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে রঙের কাজসহ একাধিক কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। অথচ কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলন করায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আটিগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা পারভীন বলেন, “এলজিইডি অফিস থেকে আমাকে স্বাক্ষর দিতে বলা হয়েছিল। আমি স্বাক্ষর দেওয়ার পর ঠিকাদার বিল তুলে নিয়েছে। এখনও রঙের কাজ বাকি রয়েছে। বাথরুমের চাবি দেওয়া হয়নি, আমার কক্ষও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। কাজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও আমি নিশ্চিত নই। ঠিকাদারকে বারবার ফোন করলেও তিনি সময়ক্ষেপণ করছেন। বিষয়টি ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকেও জানিয়েছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি।”

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাম্মেল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোজাম্মেল হক-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা উপ সহকারী প্রকৌশলী ও তদারকি কর্মকর্তা কাজী ফারুক বলেন, “কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। সব প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র আমাদের কাছে রয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, “কোন কোন প্রতিষ্ঠানের বিষয়, তা আমাকে পাঠান। এটি চলতি অর্থবছরের নাকি আগের অর্থবছরের প্রকল্প, তা আগে দেখতে হবে। বিষয়টি না জেনে এ মুহূর্তে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”

এদিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম-এর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright © Frilix Group
Theme Customized By BreakingNews