
শিক্ষা নয়, চরিত্রই মানুষের প্রকৃত পরিচয়;
মোঃ জহিরুল ইসলাম;সম্পাদক ও প্রকাশক ;
যার শিক্ষা আছে কিন্তু চরিত্র নেই, সে ব্যক্তি জাতির জন্য অভিশাপ। আর যার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কম, কিন্তু চরিত্র ও নৈতিকতা আছে—সে ব্যক্তি জাতির জন্য আশীর্বাদ।
শিক্ষা মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়, চিন্তার জগৎকে সমৃদ্ধ করে এবং জীবনে সফল হওয়ার পথ দেখায়। কিন্তু সেই শিক্ষা যদি মানুষের মধ্যে সততা, ন্যায়বোধ, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা সৃষ্টি করতে না পারে, তাহলে সেই শিক্ষা সমাজের জন্য কতটা কল্যাণকর—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ যদি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন, অন্যের অধিকার হরণ করেন, মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেন কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তাহলে তাঁর জ্ঞান সমাজের উপকারের পরিবর্তে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ জ্ঞান তখন বিবেকহীন শক্তিতে পরিণত হয়।
অন্যদিকে, একজন মানুষ হয়তো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় খুব বেশি দূর এগোতে পারেননি। কিন্তু তিনি যদি সৎ, ন্যায়পরায়ণ, পরোপকারী, দায়িত্বশীল ও মানবিক হন, তাহলে তাঁর জীবন ও কর্ম সমাজের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। এমন মানুষ নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখেন।
তাই আমাদের সন্তানদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল বা উচ্চশিক্ষার পেছনে ছুটিয়ে দিলেই হবে না; তাদের সততা, নৈতিকতা, শিষ্টাচার, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিতে হবে। কারণ একজন শিক্ষিত দুর্নীতিবাজের চেয়ে একজন সৎ ও চরিত্রবান মানুষ সমাজের জন্য অনেক বেশি মূল্যবান।
শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু সার্টিফিকেট অর্জন নয়; শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো একজন ভালো মানুষ তৈরি করা।
“জ্ঞান মানুষকে আলোকিত করে, আর চরিত্র সেই আলোকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।”