
মো: সোহরাওয়ার্দী হোসেন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
৫ নং ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আবহ ক্রমশ গরম হয়ে উঠছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে যোগ্য প্রার্থী এবং ইউনিয়নের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে চলছে নানামুখী আলোচনা। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় জনসাধারণের একটি বড় অংশের মধ্যে মো: আইয়ুব আলী-র প্রার্থিতা নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। তার বাড়ি ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের লক্ষীপুর মার্কাজ মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়।
রাজনৈতিক পটভূমি ও অভিজ্ঞতা
মো: আইয়ুব আলীর রাজনৈতিক পথচলা বেশ দীর্ঘ। তিনি ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি গাজীপুর মহানগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিট সভাপতি হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন সময়ে তিনি রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক বিরতি নেন। তিনি জানান, “যখন রোকন প্রার্থী ঘোষণার সময় এসেছিল, তখন তৎকালীন সরকারি দলের চরম অত্যাচারের কারণে গাজীপুর মহানগরীর সকল কার্যক্রম কয়েক দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রোকন হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতির চাপে সেই সময় মনোবল ভেঙে যাওয়ায় আমি কর্মী হিসেবে কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়াই।”
বর্তমানে তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি মনে করেন, আদর্শিক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নীতি ও তার নিজের লক্ষ্য—উভয়ই জনগণের কল্যাণে নিবেদিত।
স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত নির্বাচনের অঙ্গীকার
মো: আইয়ুব আলী নির্বাচনী প্রচারণায় এক নতুন ধারার সূচনা করেছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন, “নির্বাচন মানেই টাকার খেলা নয়—আমি কোনো ভোটারকে প্রলোভন দেখিয়ে বা অর্থ খরচ করে ভোট কিনব না।” ভোটারদের প্রতি তার বিশেষ অনুরোধ, “আপনারা কোনো প্রার্থীর কাছে থেকে ভোটের বিনিময়ে কোনো প্রকার লেনদেন করবেন না। প্রার্থীর সততা ও যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করেই ভোট প্রদান করুন।”
জনসেবায় নতুন দিগন্ত: পরিষদ হবে সেবামুক্ত
মো: আইয়ুব আলী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদের সকল সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণ ফ্রি বা বিনামূল্যে প্রদান করা হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান বা মেম্বারদের কাছে সেবা নিতে এসে কোনো সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের অর্থ খরচের শিকার না হন, সেই পরিবেশ আমি নিশ্চিত করব। পরিষদের সেবা পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের, এর বিনিময়ে কোনো অর্থ নেওয়া নীতিগতভাবে ভুল।”
বর্তমান ইউনিয়নের সমস্যা ও জনদুর্ভোগ
ইউনিয়নের সামগ্রিক উন্নয়নে তিনি যে রূপরেখা তৈরি করেছেন, তা মূলত বর্তমানের এই সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যেই:
অবকাঠামোগত সংকট: কাঁচা রাস্তার বেহাল দশা দূর করে টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
স্বচ্ছতা ও সুশাসন: সরকারি সকল ভাতা ও সহায়তা বিতরণে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত দুস্থদের তালিকা প্রস্তুত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত বন্টন নিশ্চিত করা।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।
যুব উন্নয়ন ও মাদক প্রতিরোধ: বেকার যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা এবং মাদকের বিস্তার রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা।
জনগণের প্রত্যাশা
সাধারণ কৃষিজীবী ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন, মো: আইয়ুব আলীর এই সাহসী পদক্ষেপগুলো ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে। তার তিনটি মূল লক্ষ্য—”উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা,” “স্বচ্ছতা ও সুশাসন,” এবং “জনসেবায় নিয়োজিত”—জনগণের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ মেটাতে কার্যকর হতে পারে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের মানুষ এবার এমন একজন নেতা খুঁজছেন, যিনি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করবেন। মো: আইয়ুব আলীর ভাষায়, “আপনার দোয়া ও সমর্থনই হতে পারে এই পরিবর্তনের শুরু।”
আগামী দিনে ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন একটি আদর্শ ইউনিয়নে পরিণত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।